সময় কলকাতা ডেস্ক:এক-দুই বছর নয়, দীর্ঘ দশটা বছর বাড়ি ছেড়ে কার্যত ভবঘুরের জীবন যাপন করেছেন শঙ্কর রাম। কখনো তার ঠিকানা ছিল কেয়ার অফ ফুটপাত আবার কখনো গাছের তলা। উদার মনস্ক কিছু মানুষের সহায়তায় দিনান্তে জুটতো খাবার আবার কোনদিন জুটতো না।
দুঃস্বপ্নের জীবনের দীর্ঘ দশ বছর এক প্রকার তার ঠিকানা ছিল হিঙ্গলগঞ্জ।বিহারের ছাপরার বাড়ি থেকে হারিয়ে যান শঙ্কর রাম।হ্যাম রেডিও এর সাহায্য নিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাঁকে তুলে দিল পরিবারের হাতে। হিঙ্গলগঞ্জ ঘটলো পরিবারের মিলন উৎসব।

কিভাবে বাড়ি ফিরছে শঙ্কর রাম?
মানসিক সমস্যায় চিকিৎসাধীন ছিলেন শঙ্কর রাম।সেটা সেই ২০০০ সালের ঘটনা।পরিবারের দাবি তার পর থেকেই শঙ্কর রাম কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।পরিবারের দাবি বছর দশেক আগে ছট পূজোর দিন হারিয়ে যান তাদের দাদা। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ থেকে পরিবারের কাছে খবর যায়। ছুটে আসে শঙ্কর রামের পরিবার।শঙ্কর রামকে ভবঘুরের মত উদ্ধার করে ছিল হিঙ্গলগঞ্জের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।তাদের কর্ণধার সুশান্ত ঘোষের দাবি তিনি শঙ্কর রামকে চিকিৎসা করান,তারপরই সে তার বাড়ির ঠিকানা জানায়।সেই মত তিনি পরিবারের লোকজনকে খবর দেন হ্যাম রেডিওর সাহায্য নিয়ে।
আপ্লুত পরিবার
উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত শহর হিঙ্গলগঞ্জে শঙ্কর রামকে বাড়ি নিয়ে যেতে এসে ছিলেন তাঁর স্ত্রী সীতা ও ভাই।

শঙ্কর রামের ভাই দেবী লাল রাম জানান বহু বছর ধরে তার দাদা নিখোঁজ ছিল। থানা ,পুলিশ ,খবরের কাগজ সহ একাধিক জায়গায় নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কোন খোঁজ মেলেনি তার দাদার। এত বছর বাদে তার দাদার খোঁজ পেয়ে স্বভাবতই আপ্লুত দেবী লাল রাম। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি হিঙ্গলগঞ্জের সমস্ত মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেবী লাল।
হ্যাম রেডিও
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হ্যাম রেডিওএর বহুল ব্যবহার রয়েছে। নিখোঁজ মানুষকে উদ্ধারে হ্যামের এই সাফল্য, বহু নিখোঁজ মানুষকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে এই হ্যাম রেডিও। বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় হ্যাম রেডিওর কার্যকারিতা সফলতার সঙ্গে প্রকাশ্যে এসেছে।প্রশাসনের এক নতুন হাতিয়ার হতে চলেছে হ্যাম রেডিও।


More Stories
বাজেট ও ক্ষুদ্র চা-চাষীদের স্বপ্ন
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন
ডিমথেরাপি ও জনরোষ ধূপগুড়িতে,অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে রক্ষা করতে পুলিশ জনতা খণ্ডযুদ্ধ