Home » বীরভূমের ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র খুনে বাগুইহাটির ছায়া

বীরভূমের ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র খুনে বাগুইহাটির ছায়া

সময় কলকাতা ডেস্ক:বাগুইহাটির দুই ছাত্র খুনের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই আরো এক ছাত্র খুন। এবার ঘটনাস্থল বীরভূমের খয়রাশোল। ইঞ্জিনিয়ারিং এর এক ছাত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই, উদ্ধার হল সেই অপহৃত ছাত্রের মৃতদেহ।

এই ঘটনায় বাগুইহাটি কাণ্ডের ছায়া দেখছেন অনেকে। মৃত ছাত্রের নাম সৈয়দ সালাউদ্দিন। বীরভূমের খয়রাশোল থানার আহমেদপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ। রবিবার বীরভূমের ইলামবাজার থানার চৌপাহারি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় তার রক্তাক্ত মৃতদেহ। গলার নলি কেটে তাকে খুন করা হয়েছে বলেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। সে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র ছিল। পুলিশের তরফ থেকে খবর দেওয়া হয় তার পরিবারের কাছে।

বাগুইহাটির ২ ছাত্র খুনের ঘটনাতেও ছাত্রের পরিবারের কাছে ১কোটি টাকার মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল। মুক্তিপণ চেয়ে ফোন যেদিন এসেছিল সেদিনই কার্যত খুন হয়েছিল দুই ছাত্র। অর্থাৎ মুক্তিপণ চাওয়া আসল উদ্দেশ্য ছিল না খুনিদের। সৈয়দ সালাউদ্দিনের হত্যার ক্ষেত্রেও তার পরিবারের কাছে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হয় সৈয়দ সালাউদ্দিনের রক্তাক্ত মৃতদেহ। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি মুক্তিপণ চাওয়াটা নেহাতই বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য?

সৈয়দ সালাউদ্দিন এর পরিবারের তরফ থেকে দাবী করা হয়েছে তাদের ছেলেকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক শেখ সলমনকে জেরা করে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মুক্তিপণ চেয়ে ফোন

সৈয়দ সালাউদ্দিন আসানসোলের একটি কলেজে মাইনিং নিয়েই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন। প্রতি সপ্তাহে শনিবার এবং রবিবার ছুটি থাকার কারণে সে বাড়ি চলে আসতো। শনিবার বাড়ি না আসার কারণে তার মা তাকে ফোন করলে সালাউদ্দিন জানায় সে রবিবার ফিরবে।শনিবার রাত বারোটা নাগাদ তার বাবা সৈয়দ আব্দুল মতিনের মোবাইলে ফোন আসে একটি অচেনা নাম্বার থেকে। ফোনে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। সৈয়দ আব্দুল মতিন পুরো বিষয়টি মল্লারপুর থানায় অভিযোগ আকারে জানায়। আব্দুল মতিন এর বক্তব্য অনুযায়ী সন্দেহ করা হয় সালাউদ্দিনের বন্ধু শেখ সলমনকে।

আটক সেখ সলমন

পুলিশ তড়িঘড়ি তদন্তে নেমে পড়ে। শেখ সলমনের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্রাক করে জানা যায় ইলামবাজারে চৌপাহারি জঙ্গলে রয়েছে সলমন। মুক্তিপণ চেয়ে যে ফোন এসেছিল সেই ফোনে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দেওয়ার সময় ধার্য করেছিল রাত ২টো। ইতিমধ্যেই পুলিশ জানতে পারে সৈয়দ সালাউদ্দিনের গলাকাটা মৃতদেহ পড়ে রয়েছে চৌপাহারি জঙ্গলে।ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় শেখ সলমনকে। সলমন পুলিশকে জানায় তারা দুইজন জঙ্গলে বসে মদ খাচ্ছিল , আচমকাই তিনজন এসে তাদের উপর আক্রমণ করে সালাউদ্দিনকে খুন করে পালায়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এই খুনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সেখ সলমন।ঘটনার পর সালাউদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বীরভূমের জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী জানিয়েছেন কি ঘটনা ঘটেছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।।

About Post Author