সময় কলকাতা ডেস্ক : পূর্ব বর্ধমানের ক্ষেতমজুর দম্পতির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিদ্যুৎই যে মৃত্যুর কারণ তা নিয়ে সংশয় না থাকলেও গলসির ক্ষেত মজুর দম্পতির মৃত্যু বজ্রপাতে নাকি বিদ্যুৎবাহী তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাকি অন্য কোনওরকম বিদ্যুতায়নে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।

উল্লেখ্য,বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় ধানজমিতে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয় বিষ্টুপদ বাগদি (৪৩) ও মমতা বাগদি (৪০) নামে দম্পতির যারা গলসির -ভেঁপুর গ্রামের পুর্ব পাড়ার বাসিন্দা। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সকালে তারা মাঠে ধান জমিতে আগাছা পরিস্কারের কাজে যান ও কাজের শেষে দুজনই বাড়ির গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটছিলেন। আচমকা বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত শুরু হলে দুইজনই মাটিতে ছিটকে পড়েন আর প্রায় সাথে সাথে ঘটনাস্থলে মাঠের এগোরো হাজারের বিদ্যুৎের খুঁটির তার ছিঁড়ে জমিতে এসে পড়ে। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয় বলে জানান স্থানীয়রা। একটু দুর থেকে দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তারাই পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে পড়ে গলসি থানার পুলিশ ও বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা। পুলিশ তাদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতব্যরত চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত ঘোষনা করেন। স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান বজ্রপাতের কারনে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তথাপি সরকারি আধিকারিকরা এই জোড়া মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিছুই নিশ্চিত ভাবে বলছেন না।এই বিষয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের পূর্ব বর্ধমান সাউথ ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার সুমন পাল জানান, ঘটনাস্থলে আগের পোলের পিন ইনসুলেটারে বাজপড়ার ফলে তার কেটে যায়।অন্যদিকে বজ্রপাতও হয়েছে।ময়না তদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব নয় জানিয়েছেন ওই আধিকারিক। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গলসি থানার পুলিস।

আবহাওয়াবিদ, বিজ্ঞানী তথা বিশেষজ্ঞদের মতে বজ্রপাতের কারণে মূলত দুটি উপায়ে মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। একটি কারণ প্রত্যক্ষ বা সরাসরি আঘাত যা মানুষের শরীরের ওপর সরাসরি পড়ে। এরকম মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম।দ্বিতীয়টি হচ্ছে পরোক্ষ আঘাত। বেশিরভাগ মৃত্যুই হয় বজ্র-বিদ্যুৎয়ের পরোক্ষ আঘাতের কারণে।পরোক্ষ আঘাতও কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে- যেখানে বজ্রপাত আঘাত হানছে সেখানকার পুরো জায়গাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে যাওয়া। একে বলা হয় ভূমির বিদ্যুতায়ন। সরাসরি মানুষকে আঘাত করে, এমন বজ্রপাত খুবই সামান্য। মাটি ভিজে থাকলে মারাত্মক হয়ে ওঠে বিদ্যুৎবাহী প্রভাব যেমনটা স্বাভাবিক ভাবেই হয়ে থাকে বৃষ্টি-বাদলায়। বজ্রঘাতে চাষজমিতে কাজে ব্যস্ত থাকা অনেকে তাই মারা যান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে।কৃষিজমিতে এরকমভাবেই অনেক মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। গলসির ক্ষেতমজুর দম্পতির মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে এজন্যই আধিকারিকরা অপেক্ষা করছেন ময়না তদন্তের ফলাফলের।।


More Stories
সাত-বউ, পাঁচটি রাজপ্রাসাদ শ্রীরামপুরের কাউন্সিলর টাইগারের!
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন