Home » হড়পা বানে বিপর্যয়ের পর বিশেষ সতর্কতা নবান্নের

হড়পা বানে বিপর্যয়ের পর বিশেষ সতর্কতা নবান্নের

সময় কলকাতা ডেস্কঃ মাল নদীতে হড়পা বানে বিপর্যয়ের ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসল নবান্ন। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে ঘাটগুলিকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখারও নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এমনকী কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রত্যেকটি জেলাশাসককেও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।

প্রত্যেকটি জেলার বিসর্জনের ঘাটগুলিতে জেলাশাসকদের পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একাদশী, দ্বাদশী ত্রয়োদশী মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট তিনদিন প্রতিমা নিরঞ্জন চলবে প্রত্যেকটি জেলায়। তাই প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় প্রশাসনিক আধিকারিকদের ঘাটগুলিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিসর্জনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার জন্য বাবুঘাট পরিদর্শনে পৌঁছেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। গোটা বিষয়ে নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত,বুধবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ মাল বাজারে মাল নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় আচমকাই হড়পা বান আছড়ে পড়ে মাল নদীর পাড়ে। সেসময়ই ভেসে যায় অসংখ্য মানুষ। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। পাশাপাশি নিখোঁজ ছিল ৪০ জনেরও বেশি মানুষ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজে নামে পুলিশ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ওইদিন রাতেই ঘটনাস্থলে যান জেলা পুলিশ সুপার সহ জেলাশাসক। কিন্তু জলের তোড় এবং টানা বৃষ্টির জেরে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। গোটা ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে দুর্গতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন।

সূত্রের খবর, বুধবার বিসর্জন ঠিকমতো করার জন্য মাল নদীর শুকনো খাতে বোল্ডার ফেলা হয়েছিল। যেদিকে বিসর্জন হচ্ছে, সেদিকে যেন স্রোতের টান থাকে। আর এতেই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি বিসর্জনের সময় নদীর তীরে সিভিল ডিফেন্সের মাত্র ৮ জন কর্মী উপস্থিত ছিল। দুর্ঘটনার পর দড়ি আর নৌকা ছাড়া সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের কাছে কিছু ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাজ্য প্রশাসন। যদিও প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধারকাজ শুরু হতে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। লাগাতার বৃষ্টির জন্যই উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত।

About Post Author