Home » ডিয়ার লটারির বিরুদ্ধে সোচ্চার বিক্রেতারা, রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়

ডিয়ার লটারির বিরুদ্ধে সোচ্চার বিক্রেতারা, রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়

বিশ্বজিৎ হীরা,সময় কলকাতা:    ডিয়ার লটারি কোম্পানির বিরুদ্ধে সোমবার বিক্ষোভ দেখালেন বারাসাত জোনের ডিয়ার সেলার ইউনিয়নের সদস্যরা। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই ডিয়ার লটারি কোম্পানির বিরুদ্ধে সোচ্চার ডিয়ার সেলার ইউনিয়ন। মূলত তাদের কমিশন কমিয়ে দেওয়া, প্রাইজ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের শোষণ করার প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বিভিন্ন জেলার লটারি বিক্রেতারা। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি,মুর্শিদাবাদ, উত্তরদিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি , শিলিগুড়ির ডিয়ার লটারি বিক্রেতারা প্রচার চালাচ্ছেন এলাকায় এলাকায়। তাদের দাবি, পুরনো কমিশন বহাল রাখতে হবে এবং প্রাইজের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

প্রসঙ্গত, ডিয়ার লটারি কোম্পানির তিন বেলার খেলায় কার্যত প্রাইজ নেই বললেই চলে এমনটাই অভিযোগ বিক্রেতাদের। একদিকে ধার দেনা করে বহু মানুষ টিকিটের ব্যবসা করছেন। আর অন্যদিকে প্রাইজ না হওয়ার কারণে শুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের কাছ থেকে কটু কথা। ফলে কার্যত হতাশ বহু ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের কাঠগড়ায় ডিয়ার কোম্পানির টিকিট বিক্রির পলিসি। দীর্ঘদিন ধরেই বহু পরিবারের অভিযোগ, টিকিটের নেশায় বহু পরিবারে এখন ঢুকে পড়েছে অভাব। বহু মানুষের ইচ্ছা এই ডিয়ার লটারি টিকিট বিক্রি বন্ধ হোক। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক এখন এই ডিয়ার লটারি টিকিট বিক্রির কাজে নেমে পড়েছে। কেউ ১০বছর, কেউ ২০ বছর, কেউবা ৩০ বছর ধরে এই টিকিট বিক্রির ব্যবসায় রয়েছেন। একটা সময় ডিয়ার লটারি টিকিটে প্রাইজ হলে মোটা টাকা কমিশন হত বিক্রেতাদের আর এখন সেই কমিশন কার্যত তলানিতে। ফলে বিক্রেতারাও এখন দেখছেন অভাবের মুখ।

বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিয়ার লটারি কোম্পানি কার্যত একচেটিয়া ব্যবসা করছে। আর সেই কারণেই স্বৈরাচারিতা দেখা দিয়েছে কোম্পানির নীতি নির্ধারণে। বিক্রেতাদের আরও অভিযোগ কোম্পানি, এই ডিয়ার লটারি টিকিটের মাধ্যমে আয় করছে বিরাট টাকা । অথচ সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে,আর প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায়। অধিকাংশ প্রাইজ দেওয়া হচ্ছে অবিক্রিত টিকিটের উপর। ফলে সেই টাকাও ঘরে তুলছে কোম্পানি, আর প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ আর বিক্রেতারা। এই প্রতারণা আর শোষণের বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের বহু লটারি টিকিট বিক্রেতারা। সোমবার বারাসাতের কাঠগোলা মোড়ে প্রায় ৫০০ জন লটারি টিকিট বিক্রেতারা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ দেখায়। বিক্ষোভ থেকে আওয়াজ উঠেছে প্রাইজের পরিমাণ বাড়াতে হবে আর বিক্রেতাদের কমিশন বাড়াতে হবে নইলে লটারি টিকিট বিক্রি বন্ধ করবেন বিক্রেতারা। উত্তর ২৪ পরগনার এই আওয়াজ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে।

ইতিমধ্যে জলপাইগুড়ি সহ একাধিক জেলার কিছু কিছু অংশে লটারি টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছেন বিক্রেতারা। তৈরি হয়েছে তাদের নিজস্ব হোয়াটস্যাপ গ্রুপ। এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমেই তারা তাদের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। একদা সর্বনাশই লোটোর পাল্লায় পড়েছিলেন রাজ্যের বহু মানুষ। তৎকালীন সময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোটোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়াতে এ রাজ্য থেকে কার্যত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছিল লোটোর জুয়া খেলা। বর্তমানে রাজ্যে থাবা বসিয়েছে এই ডিয়ার লটারি টিকিট। সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বহু সাধারণ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। এখন দেখার প্রশাসন কবে সক্রিয় হয়ে এই ডিয়ার লটারি টিকিটের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়।।

বিশ্বজিৎ হীরা (প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, সময় কলকাতা নিউজ চ্যানেল )

About Post Author