চুমকী সূত্রধর, সময় কলকাতা : প্রথম থেকেই বিজেপির আক্রমণের মূল অস্ত্রই ছিল পরিবারতন্ত্র। একের পর এক নির্বাচন, সেই নির্বাচনের প্রচারে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কোনঠাসা করা হয়েছে দেশের প্রাচীন দল কংগ্রেসকে। ২০১৪- বিজেপির উত্থান, ২০১৯- আরও একবার পরিবারতন্ত্রের ইস্যু এবং অনুন্নয়নকেই হাতিয়ার করে, পাকাপক্তভাবে লোককল্যাণ মার্গে নরেন্দ্র মোদির আস্তানা, সবকিছুই দেখেছে গোটা দেশ। এই ৭ থেকে ৮ বছর পেরিয়ে দেশের মাত্র ২টি রাজ্যে একক ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস। একের পর এক আঞ্চলিক নির্বাচনেও ভরাডুবি। গোদের ওপর বিষফোঁড়া হিসেবে কাজ করেছিল কংগ্রেসের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর রাহুল গান্ধির নেতৃত্বের ওপর অভিযোগ তোলা। এই গৃহযুদ্ধের প্রধান প্রবক্তা গুলাম নবি আজাদ দল ছেড়েছেন, সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকেও। এবার সামনে চব্বিশের নির্বাচন। এই নির্বাচনের আগে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতেই প্রায় ২৪ বছর পর কংগ্রেসের অগান্ধি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে। দল ঠিক করে, এই ‘পরিবারতন্ত্রে জীবিত দল’ সম্পর্কে দেশের মানুষের ধারণা বদলাতে নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, প্রকৃত নির্বাচিত হয়ে দলের সভাপতি পদে বসুক কোনও অগান্ধি কংগ্রেস নেতা। কিন্তু, নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক নাটকীয় মোড়ের সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ। শুরু থেকেই গান্ধি পরিবারের পছন্দের প্রার্থী ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। কিন্তু, এই পছন্দ ঘিরেই কংগ্রেসের হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে দলের নেতা-কর্মীদের বিদ্রোহও দেখেছে গোটা দেশ। হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে গিয়ে, নিজের মুখ্যমন্ত্রীর পদ বাঁচানোর লড়াই করেছেন সেই অশোক গেহলটই, সেটাই দেখেছে দেশ। শেষ মুহূর্তে তীরে এক একপ্রকার তরী ডোবার মুহূর্তেই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন তিরুবনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ তথা জি ২৩-র নেতা শশী থারুর এবং কংগ্রেস হাইকমান্ডের অনুগত মল্লিকার্জুন খাড়গে। এখানেও উঠেছে লড়াইয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। মল্লিকার্জুন খাড়গে গান্ধি পরিবারের প্রার্থী হিসেবে খবর প্রকাশ্যে আসায় প্রচারে সেভাবে সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন শশী থারুরও। তিনি অভিযোগ করেছেন ফলাফল গণনার দিনও। তবে, এসবের মাঝেই ৭,৮৯৭ টি ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন মল্লিকার্জুন খাড়গে। অন্যদিকে, ‘পরিবর্তনের প্রার্থী’ হিসেবে নিজেকে জাহির করা শশী থারুর পেয়েছেন মাত্র ১,০৭২টি ভোট।

অতএব,দুই দশক পর অগান্ধী সভাপতি হলেও, শেষ পর্যন্ত ‘গান্ধীদের মনোনীত প্রার্থী’ হিসেবে পরিচিত মল্লিকার্জুন খাড়্গেই দলের দায়িত্ব পেলেন। ১৯৯৭ সালে গান্ধীদের প্রার্থী সীতারাম কেশরীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন শরদ পওয়ার এবং রাজেশ পাইলট। তবে, লাভ হয়নি। এর আগে ২০০০ সালে শেষ বার কংগ্রেসে গান্ধীদের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন জীতেন্দ্র প্রসাদ এবং রাজেশ পাইলট। তবে প্রচার পর্বেই পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল রাজেশ পাইলটের। এসবের মাঝেই ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে মল্লিকার্জুন খাড়গে জয় শুধুই যে পদে আসীন হওয়া, তেমনটা নয়। সামনে রয়েছে একের পর এক বড় চ্যালেঞ্জ। একটি চ্যালেঞ্জ, রাজস্থানে অশোক গেহলট বনাম সচিন পাইলট বিবাদ। অন্যটি গুজরাত-হিমাচলের বিধানসভা নির্বাচন। কারণ দুই রাজ্যেই বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থায় কংগ্রেস নেই। এমনকী, কংগ্রেস শাসিত রাজ্য বাড়ানোর লক্ষ্য। তবে, খাড়গের জয় অনেকটাই সদর্থক ভূমিকা পালন করতে পারে কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে। পরিবারতন্ত্র তকমা থেকে দলকে সরিয়ে আনার। খাড়গেই সেই ব্যক্তি, যিনি বাইশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় বিরোধী প্রার্থী বাছাইয়ের বৈঠকে কংগ্রেসের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। খাড়গেই সেই ব্যক্তি, যিনি বিরোধী জোট তৈরির কারণে কংগ্রেসের হয়ে এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠকে হাজির ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই নমনীয় মনোভাব এবং পরিপক্ক রাজনৈতিক বুদ্ধি বিরোধী জোট তৈরিতে কিছুটা হলেও সদর্থক ভূমিকা পালন করতে পারবে।।
(চুমকী সুত্রধর, কন্টেন্ট রাইটার, ডেস্ক ইনচার্জ , সময় কলকাতা নিউজ চ্যানেল )


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের