Home » কৈশোরের ভানু-ই পরিণত রবি, তাঁর রচনায় আলোকিত সঙ্গীতজগৎ

কৈশোরের ভানু-ই পরিণত রবি, তাঁর রচনায় আলোকিত সঙ্গীতজগৎ

সময় কলকাতা ডেস্ক: গহন কুসুম-কুঞ্জ মাঝে/মৃদুল মধুর বংশি বাজে বা সজনি সজনি রাধিকা লো/দেখ অবহুঁ চাহিয়া ব্রজবুলি ভাষায় রচিত রবীন্দ্রনাথের লেখা অতি জনপ্রিয় এই গানগুলি ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’র সঙ্গীত নামে পরিচিত। “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ব্রজবুলি ভাষায় রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু রবি কেন ভানু নামে আত্মপ্রকাশ করল ? “ভানুসিংহ”- সম্পর্কে জেনে নিন কিছু অজানা গল্প।

কৈশোরে রবীন্দ্রনাথ মধ্যযুগীয় মৈথিলি কবিতাগুলির প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। বৈষ্ণব কবিদের অনুকরণে, কৈশোর ও প্রথম যৌবনে কবি “ভানুসিংহ ঠাকুর ” ছদ্মনামে কিছু পদ বা কবিতা রচনা করেছিলেন। কথিত আছে, রবীন্দ্রনাথ কৈশোরে অক্ষয়চন্দ্র সরকারের কাছ থেকে জেনেছিলেন জনৈক বালককবি চ্যাটার্টন-এর কথা, যিনি প্রাচীন কবিদের অনুকরণে কবিতা লিখতেন। তাই কিছুটা চ্যাটার্টনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই রবির এই ‘ভানুসিংহ’ নামে পদ রচনার সূত্রপাত ঘটে।

তারপর রবীন্দ্রনাথের নূতন বৌঠান কাদম্বরী দেবী তাঁকে ‘ভানুসিংহ’-এর কবিতাগুলি ছাপাতে অনুরোধ করেছিলেন। যদিও এই গ্রন্থ প্রকাশের আগের বছরেই আত্মহত্যা করেছিলেন তাঁর নূতন বৌঠান কাদম্বরী দেবী। তাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী, তাঁর প্রিয় বৌঠান কাদম্বরী দেবীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” উৎসর্গ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

“ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” প্রকাশের সময় সব কটি গানের সুরনির্দেশ দেওয়া থাকলেও, পরবর্তীকালে মাত্র নয়টি গানের সুর পাওয়া যায়। এই নয়টি গানের সুর সংকলিত হয়েছে স্বরবিতান ২১-এ। যদিও জানা যায়, পরবর্তীকালে পরিণত রবি তাঁর এই পদাবলীতে অনেক সংশোধন করেন। এবং নিজের কৈশোরের রচনায় মাতৃভাষার রস আস্বাদন করতে না পারার জন্য পরিণত বয়সে আক্ষেপও করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

About Post Author