Home » সিত্রাং মোকাবিলায় তৎপর নামখানা প্রশাসন

সিত্রাং মোকাবিলায় তৎপর নামখানা প্রশাসন

সময় কলকাতা ডেস্কঃ সোমবার সকাল থেকেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। ক্রমেই শক্তি বাড়িয়ে বঙ্গোপসাগরে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। যার কারণে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে নামখানা বেণুবনের ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জোয়ারের জল নামখানার ফেরিঘাটটিকে তলিয়ে যাওার সম্ভাবনা রয়েছে৷ সর্তকতামূলকভাবে ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝড়ের আগে টিনের চাল বাঁধতে ব্যস্ত সুন্দরবনের নামখানার মানুষ৷

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই নানান প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য। গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ২০ টি এসডিআরএফ ও ১৫ টি এনডিআরএফ বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। ক্রমশ উপকূলীয় জেলাগুলির আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের সব থেকে বেশি প্রভাব পড়তে চলেছে সুন্দরবন এলাকায়। সোমবার সুন্দরবন এলাকা দিয়ে প্রবেশ করবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। এরপর মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশের তিনকোনা ও সন্দীপ এর মাঝামাঝি স্থলভাগে প্রবেশ করবে। ঘণ্টায় গতিবেগ থাকবে ১০০ কিলোমিটার। সোম ও মঙ্গলবার জলোচ্ছ্বাসের জেরে নদী বাঁধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রের জল ঢুকে পড়তে পারে নিচু এলাকাগুলিতে।

অন্যদিকে এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দিঘার পর্যটকদের সমুদ্রে নামায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সমুদ্র সৈকতেও রয়েছে কড়া নজরদারি৷ পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে৷ সৈকতে চলছে মাইকিংও। উপকূল এলাকার থানা এবং ব্লকগুলিতেও খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম৷ সেইসঙ্গে নুলিয়া ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই দিঘার সরকারি স্কুলগুলিকে পরিষ্কার করে সেখানে যথেষ্ট পরিমাণে শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে,আন্দামান সাগরের ওপর যে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে সেটি গভীর নিম্নচাপ রূপেই আন্দামান সাগরের ওপর অবস্থান করছে। ২৪ তারিখ এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড় রূপান্তরিত হবে। এরপর ২৫ তারিখ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি আসবে। যার কারণে ২৪ এবং ২৫ তারিখ উপকূলের জেলাগুলিতে মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ তারিখ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায় বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা হাওড়া হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরেও রয়েছে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হওয়া বইবে। পূর্ব মেদিনীপুরে ঝোড়ো হওয়ার গতিবেগ থাকবে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। এদিন উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার।

About Post Author