সময় কলকাতা ডেস্কঃ কালীপুজোর আরাধনায় মেতে উঠেছে শহর থেকে গ্রাম। আলোর উৎসবে সেজে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ। আর এই দীপান্বিতা অমাবস্য্যয় বিভিন্ন মতে কালীপুজো হয়ে থাকে। ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের হিলির জাগ্রত দেবী ভৈরবী কালীর পুজা হয় সম্পূর্ণ তান্ত্রিক মতে। যা আজকে আমরা তুলে ধরবো সময় কলকাতার পর্দায়।

মা কালী কে আমরা বহু রূপে আরাধনা করে থাকি। শ্রী শ্রী চণ্ডীতে দেবী দুর্গার যে দশমহাবিদ্যার কথা বলা হয়েছে তারমধ্যে তৃতীয় মহাবিদ্যা হলেন দেবী কালী। বিভিন্ন শাস্ত্রে বিভিন্ন মতামত থাকলেও সাধারণভাবে দেবী দুর্গারই অপর এক রূপকে আমরা আদ্যাশক্তি বলে পুজা করি।মা কালীর রূপভেদ হিসেবে উল্লেখ্য,মহাকালী, রক্ষাকালী,শ্মশানকালী,ভদ্রকালী,রটন্তীকালী, গুহ্যকালী, সিদ্ধকালী, দক্ষিণাকালী ও ফলহারিণী কালী প্রভৃতি। কালীকে আমরা উগ্ররূপা রূপে দেখে থাকি। এমনই এক রূপের প্রকাশ ভৈরবী কালীর মধ্যে। শিবের ভৈরব রূপে যেমন প্রকাশ যেমন আমরা উল্লেখ পাই তেমনই কালীরও ভৈরবী রূপে উল্লেখ হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। তন্ত্র মতে ভৈরবী কালীর সাধনাও হয়। হিলির ভৈরব তলার ভৈরবী কালী ও তার পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস।
হিলির ভৈরবী কালীপুজোর ইতিহাস কমবেশি ২০০ বছরের পুরানো। ভৈরব তলা ও ভৈরবী কালীপুজো মিশে আছে সেই ইতিহাসে। সম্পুর্ণ তান্ত্রিক মতে হয়ে থাকে এই কালীপুজো আর এই পুজোকে ঘিরে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার সীমান্তবর্তী হিলির ভৈরব তলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা থাকে প্রভূতমাত্রায়। সঠিক সময় বলা না গেলেও অনুমান করা হয় উনবিংশ শতকের মধ্যভাগ থেকে হয়ে আসছে এই পুজো।শোনা যায়,সে সময় থেকেই বলির প্রচলন রয়েছে। বলির মাংস দিয়েই মাকে ভোগ নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। শিবের ভৈরব নামানুসারেই স্থানটির নাম ভৈরব তলা। পূজোর পরদিন সকালে এখানে শিবের উপাসনা করা হয়। অতীতে হিন্দু মুসলমান মিলে এই পূজো করা হত যমুনা নদীর পাড়ে। কিন্তু দেশ ভাগের পরে মন্দিরটি ভারতবর্ষের সীমানায় পড়েছে। ফলশ্রুতি,সীমান্ত ঘেষা এই পুজো এপারের মানুষজনরাই করে আসছেন। এক সময় এই পুজো করতেন এলাকার এক বিশিষ্ট তান্ত্রিক দূর্গা চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তীতে তার ছেলে দুলু চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘ সময়কাল ধরে পুজো করে আসেন। দুলু বাবুর মৃত্যুর পর তার শিষ্যরা পুজো করেন বর্তমানে। এলাকার মানুষের বিশ্বাস,অতিজাগ্রত ভৈরবী কালীর অলৌকিক মাহাত্ম্য রয়েছে। আধ্যাত্মিক ও অতিলৌকিক বহু গল্পগাঁথা মিশে রয়েছে জনশ্রুতিতে। ভৈরবতলার ভৈরবী কালী পুজোর রীতিনীতির পরিবর্তন ঘটে নি হিলির জল হাওয়ায় মিশে থাকা ভৈরবী কালীর ওপরে বিশ্বাসের কারণে।এখনও নিষ্ঠার সঙ্গে এই পুজো করে আসছেন এলাকার মানুষেরা। পুজোর সময় এখানে বাইরের মানুষও আসেন। এই পুজোয় মনস্কামনা পূর্ণ হয় বলেই রয়েছে সর্বসাধারণের বিশ্বাস।

দক্ষিণ দিনাজপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত হিলির কালীপুজোয় প্রাতিষ্ঠানিক আড়ম্বর ও জাঁকজমক যতই অদৃশ্য থাকুক, ভিন্ন মার্গের কালীপুজো হিসেবে ভৈরবী কালীপুজোর মাহাত্ম্য সম্পূর্ণ ভিন্নধারার এবং নিশ্চিতভাবেই উল্লেখযোগ্য।


More Stories
ঝড়ে ভেঙে পড়ল বারাসাতের কালীপুজোর ওভারহেড গেট
কালীপুজোয় শব্দবাজির দাপট, প্রতিবাদ করে বৃদ্ধার জুটল প্রহার, ভবানীপুর থেকে বারাসাত -ছবি কি আদৌ পাল্টেছে?
ধূপগুড়ির এই মন্দিরের রয়েছে প্রাচীন এক ইতিহাস! মন্দির নিয়ে প্রচলিত রয়েছে বহু অলৌকিক কাহিনী