Home » বিধাননগরে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে ডেঙ্গি

বিধাননগরে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে ডেঙ্গি

সময় কলকাতা ডেস্কঃ রাজ্যে উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। সেইসঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এই পরিস্থিতিতে এবার ডেঙ্গি মোকাবিলায় বিশেষ নির্দেশিকা দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রানাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই ডেঙ্গি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। ডেঙ্গি রোধ করতে জল ও আবর্জনা অপসারনের জন্যশ পুরসভা ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করতে নির্দেশ দেন। এদিন তিনি বলেন, ‘দুয়ারে সরকার কর্মসূচি থেকে ডেঙ্গি সচেতনতা প্রচার হোক। সকলে সচেতন থাকুন। যত পরিষ্কার করতে পারবে ততই ভালো।’ আর মুখ্যমন্ত্রীর এহেন নির্দেশের পরেই শুরু হয়ে গিয়েছে তৎপরতা। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবনের তরফেও বিডিও দের সঙ্গে আলোচনা করে, দুয়ারে সরকার ক্যারম্প থেকে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের কর্মসূচি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিধাননগরে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে ডেঙ্গি পরিস্থিতি। গত এক সপ্তাহ ধরে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ডেঙ্গি আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। জেলায় এখনও পর্যন্ত মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে বিধাননগর পুর এলাকাতেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক।

এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি মোকাবিলায় বিধাননগর পুরনিগমকে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৯৩। যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩০০। যদিও বিধাননগরের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিধাননগরের অধিকাংশ ব্লকের পার্কেরই বেহাল অবস্থা। পার্কের মধ্যে জল জমে রয়েছে। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি পার্কের ফোয়ারাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় কারণে সেখানে মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে।

স্বাস্থ্য ভবনের তরফে ইতিমধ্যেই ফাঁকা জমি ও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় থাকা বাড়িগুলিতে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিধাননগর পুরনিগমের তিনটি হাসপাতালে বেডের সংখ্যাও বাড়াতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ফের একবার স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা ড্রোন উড়িয়ে খালগুলিতে জীবাণুনাশক স্প্রে করার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও পুজো প্যান্ডেলগুলির উপরেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। সূত্রের খবর,কলকাতায় এখনও পর্যন্ত বন্ধ অবস্থায় থাকা ১৭০টি বাড়িতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে ঢুকে পুরকর্মীরা সাফাই করেছেন।

এ প্রসঙ্গে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন,‘তালাবন্ধ হয়ে পড়ে থাকা বাড়িগুলিতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছে। একটি বাড়ির জন্য আশপাশের অন্যান্য বাড়ির মানুষকে বিপদে ফেলা যায় না। এ বিষয়ে অবশ্যই প্রত্যেককে সতর্ক হতে হবে।’

About Post Author