Home » লটারি সংস্থার শীর্ষ দুই কর্তাকে দিল্লিতে তলব

লটারি সংস্থার শীর্ষ দুই কর্তাকে দিল্লিতে তলব

সময় কলকাতা ডেস্কঃ লটারি কাণ্ডে আরও তৎপর ইডি। এবার এক লটারি সংস্থার শীর্ষ দুই কর্তাকে দিল্লিতে ইডির অফিসে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর,আগামী সপ্তাহেই দিল্লিতে ওই সংস্থার কর্ণধার এবং এক ডিরেক্টরকে তলব করেছে ইডি। যদিও এর আগেও একবার ওই লটারি সংস্থার ডিরেক্টরকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে,ওই লটারি সংস্থার তরফে নির্বাচনী বন্ড ১৫০ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল। মূলত সেই সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তলব করা হয়েছে সংস্থার দুই শীর্ষ কর্তাকে।

চলতি বছরেই ডিয়ার লটারিতে এক কোটি টাকা জিতেছিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। যা রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমত আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল।  অনুব্রতর জেতা সেই লটারি নিয়ে সিবিআই তদন্তে নামতেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে,একবার নয়, দুবার নয়, পাঁচবার লটারির পুরস্কার মূল্য বাবদ লাখ লাখ টাকা ঢুকেছে অনুব্রত-কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের অ্যাকাউন্টে। মোট পাঁচটি লটারির টাকার হদিশ পেয়েছে বলে দাবি সিবিআই আধিকারিকদের। তবে লটারির এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সঙ্গে কোনওভাবে গরুপাচার মামলার যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডলের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথমে ১০ লাখ টাকা ঢুকেছিল। এরপরই ঘটনার তদন্তে নেমে কেষ্ট-কন্যা সুকন্যার আরও দু’টি অ্যাকাউন্টের হদিশ মেলে। যেখানে লটারির পুরস্কার মূল্য বাবদ মোট ৫১ লাখ টাকা ঢুকেছে। প্রথমে তিন ধাপে মোট ৫১ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ৫০ লাখ টাকা ঢুকেছে কেষ্ট কন্যার অ্যাকাউন্টে।

প্রসঙ্গত,বোলপুরের ব্যবসায়ী বাপি গঙ্গোপাধ্যায়ের গাঙ্গুলি লটারি নামে একটি লটারির দোকান রয়েছে। সুত্রের খবর,সেখান থেকেই লটারির টিকিট কাটা হয়েছিল। কার্যত সেকারণেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে ১ নভেম্বর নিজাম প্যালেসে তলব করা হয়েছিল লটারি টিকিট বিক্রেতা বাপি গঙ্গোপাধ্যায়কে। সেসময় তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অনুব্রত নিজে গিয়ে কি ওই টিকিট কিনেছিলেন? নাকি কারও মারফতে কেনা হয়েছিল ওই টিকিট? কতগুলি লটারি কিনেছিলেন এবং কত টাকায় লটারি কিনেছিলেন? যদিও সিবিআই আধিকারিদের দাবি,গরু পাচারের বিশাল অঙ্কের কালো টাকা এই লটারির টিকিটের মাধ্যমেই সাদা করা হত।

চলতি বছরের জানুয়রি মাসেই ডিয়ার লটারির ওয়েব সাইটের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়। যেখানে বলা হয় মাত্র ছয় টাকায় ডিয়ার লটারিতে অনুব্রত মণ্ডল এক কোটি টাকা পেয়েছে। এরপরেই প্রশ্ন ওঠে যে,অনুব্রত মণ্ডল কি সত্যিই লটারি কেটেছিলেন? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরুও হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। যদিও সেসময় অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছিলেন, ‘কোনোদিনই তাঁর লটারি কেনার নেশা ছিল না। তবে তাঁর গাড়ি চালক ও নিরাপত্তা রক্ষীরা প্রায়ই লটারি কিনতেন।’

গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির পর থেকেই সিবিআই আধিকারিকদের নজরে ছিল অনুব্রতর বিপুল সম্পত্তি। ইতিমধ্যেই তাঁর সম্পত্তি নিয়ে যাবতীয় তথ্যও খতিয়ে দেখছে সিবিআই। তারই মধ্যে এবার তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে অনুব্রতর জেতা সেই লটারির টিকিট।

About Post Author