সময় কলকাতা ডেস্কঃ লটারি রহস্যের ধোঁয়াশা যেন কোনওভাবেই কাটছে না। যত দিন যাচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। লটারি কাণ্ডে এবার আরও তৎপর ইডি। লটারি কাণ্ডের তদন্তের স্বার্থে বৃহস্পতিবার সকালেই বীরভূমের বড়শিমুলা গ্রামে হানা দিলেন সিবিআই-এর আধিকারিকরা। এদিন নুরের বাড়ির সামনে একটি নীল রংয়ের গাড়িও দেখা যায়। জানা গিয়েছে, বড়শিমুলা গ্রামের বাসিন্দা শেখ নুর আলি এবং তাঁর দাদাকে এদিনই তদন্তকারীদের অস্থায়ী ক্যাম্পে তলব করা হয়েছে। সিবিআই আধিকারিকদের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, প্রথমে এই নুর আলিই লটারি পেয়েছিলেন। পরে লটারির পুরস্কার মূল্য বাবদ অর্থ হাত বদল হয়। সিবিআই আধিকারিকদের দাবি,শেখ নুর আলি এবং তাঁর দাদার মারফত বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডল লটারি পেয়েছিলেন। তাঁদের আয়ের উৎস কী? ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখছেন সিবিআই-এর আধিকারিকরা।
কিছুদিন আগেই গরু পাচার মামলায় মূল অভিযুক্ত এনামুল হকের নামে লটারির হদিস মিলেছিল। সিবিআই সূত্রে খবর, এনামুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০১৭ সালে জেতা একটি ৫০ লক্ষ টাকার লটারির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। এমনকি সিবিআই-এর তদন্তে হদিস মিলেছে এনামুলের স্ত্রীর নামেও একটি লটারির টিকিটের। যার তদন্ত এখনও চলছে বলেই সিবিআই সূত্রে খবর। গরু পাচার মামলার তদন্তে নেমে এই নিয়ে ষষ্ঠ লটারির টিকিটের হদিস পেল সিবিআই –এর তদন্তকারী আধিকারিকেরা। যদিও গরু পাচার মামলার তদন্তে নেমে এর আগে সুকন্যা মণ্ডলের নামে পাঁচটি লটারির হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। লটারির পুরস্কার মূল্য বাবদ কেষ্ট কন্যার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঁচবার লটারির টাকা ঢুকেছে বলে দাবি করেছিল সিবিআই। তবে,এই টাকার সঙ্গে কোনওভাবে গোরুপাচার চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কিনা, ইতিমধ্যেই তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
চলতি বছরেই ডিয়ার লটারিতে এক কোটি টাকা জিতেছিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। যা রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমত আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এবার এই ঘটনার প্রায় দশ মাস পর অনুব্রতর জেতা সেই লটারি নিয়ে সিবিআই তদন্তে নামতেই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডলের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথমে ১০ লাখ টাকা ঢুকেছিল। এরপরই ঘটনার তদন্তে নেমে কেষ্ট-কন্যা সুকন্যার আরও দু’টি অ্যাকাউন্টের হদিশ মেলে। যেখানে লটারির পুরস্কার মূল্য বাবদ মোট ৫১ লাখ টাকা ঢুকেছে। প্রথমে তিন ধাপে মোট ৫১ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ৫০ লাখ টাকা ঢুকেছে কেষ্ট কন্যার অ্যাকাউন্টে।
প্রসঙ্গত,বোলপুরের ব্যবসায়ী বাপি গঙ্গোপাধ্যায়ের গাঙ্গুলি লটারি নামে একটি লটারির দোকান রয়েছে। সুত্রের খবর,সেখান থেকেই লটারির টিকিট কাটা হয়েছিল। কার্যত সেকারণেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে ১ নভেম্বর নিজাম প্যালেসে তলব করা হয়েছিল লটারি টিকিট বিক্রেতা বাপি গঙ্গোপাধ্যায়কে। সেসময় তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অনুব্রত নিজে গিয়ে কি ওই টিকিট কিনেছিলেন? নাকি কারও মারফতে কেনা হয়েছিল ওই টিকিট? কতগুলি লটারি কিনেছিলেন এবং কত টাকায় লটারি কিনেছিলেন? যদিও সিবিআই আধিকারিদের দাবি,গরু পাচারের বিশাল অঙ্কের কালো টাকা এই লটারির টিকিটের মাধ্যমেই সাদা করা হত।
চলতি বছরের জানুয়রি মাসেই ডিয়ার লটারির ওয়েব সাইটের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়। যেখানে বলা হয় মাত্র ছয় টাকায় ডিয়ার লটারিতে অনুব্রত মণ্ডল এক কোটি টাকা পেয়েছে। এরপরেই প্রশ্ন ওঠে যে,অনুব্রত মণ্ডল কি সত্যিই লটারি কেটেছিলেন? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরুও হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। যদিও সেসময় অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছিলেন, ‘কোনোদিনই তাঁর লটারি কেনার নেশা ছিল না। তবে তাঁর গাড়ি চালক ও নিরাপত্তা রক্ষীরা প্রায়ই লটারি কিনতেন।’ গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির পর থেকেই সিবিআই আধিকারিকদের নজরে ছিল অনুব্রতর বিপুল সম্পত্তি। ইতিমধ্যেই তাঁর সম্পত্তি নিয়ে যাবতীয় তথ্যও খতিয়ে দেখছে সিবিআই। তারই মধ্যে এবার তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে অনুব্রতর জেতা সেই লটারির টিকিট।
লটারি তদন্তে এবার বীরভূমের বড়শিমুলায় সিবিআই


More Stories
জিডিপি বিতর্কের খেই ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশ্বগুরু তকমা দিলীপ ঘোষের
‘দিল্লি কা লাড্ডু’ খেয়ে গাছের মগডালে : আহমেদ আনসারীর আশ্চর্য কাহিনী
বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোয় গ্রেফতারের নির্দেশ শুভেন্দুর