Home » হারিয়ে যাচ্ছে মন্তেশ্বরের খোয়া ক্ষীর শিল্প

হারিয়ে যাচ্ছে মন্তেশ্বরের খোয়া ক্ষীর শিল্প

সময় কলকাতা ডেস্ক: পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর শুধু প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো কালী মায়ের মন্দিরের জন্যই বিখ্যাত নয়। একটা সময় এই মন্তেশ্বর খোয়া ক্ষীর উৎপাদনেও ছিল বাংলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এখানকার ক্ষীর ছিল একেবারে খাঁটি দুধ দিয়ে তৈরি। কিন্তু এখন হারিয়ে যেতে বসেছে তাঁর কৌলিন্য। কিন্তু কেন?

এক সময় পূর্ব বর্ধমান জেলার “খোয়া ক্ষীর” উৎপাদনের মুল উৎপাদন কেন্দ্র ছিল মন্তেশ্বর। প্রায় ২০০ শো টি পরিবার মিলে খোয়া ক্ষীর তৈরী করতেন। মন্তেশ্বরের প্রসিদ্ধ খোয়া শুধু বর্ধমান জেলাতেই নয়, যেত হুগলী, হাওড়া, কলকাতাতেও। কেন না এখানের খোয়া ক্ষীরে কোন ভেজাল মেশানো হয় না। এলাকার বাঘাসন, হোসেনপুর, মন্তেশ্বর, দেনুড়, ধেনুয়া প্রভৃতি গ্রামে একদা খোয়া ক্ষীরের রমরমা কারবার ছিল। গোয়ালাদের বাড়িতেই বাঁধা থাকতো একাধিক গরু, মোষ। তার দুধ সংগ্রহ করে, কড়াইতে ক্রমাগত আগুনে জাল দিয়ে প্রস্তুত হত খোয়া ক্ষীর। দুধকে ক্রমাগত ফুটিয়ে ঘন করে ক্ষোয়া ক্ষীর তৈরি হত। বর্তমানে বহুজাতিক দুগ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপটে ক্রমশঃ পিছু হটেছে মন্তেশ্বরের খোয়া ক্ষীর শিল্প। বহু মানুষ এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়ে গিয়েছেন। এখন মাত্র ধেনুয়া গ্রামের কয়েকটা পরিবার এই পেশায় যুক্ত আছেন ।

এখন ক্ষোয়া ক্ষীরে আগের মতো আর লাভ নেই। জ্বালনির খরচও কয়েকগুন বেড়েছে। অনেকে লোন নিয়েও এই ব্যবসা আর টিকিয়ে রাখতে পারছেন না। তাদের আশঙ্কা তাহলে কি অচিরেই একদিন বন্ধ হয়ে যাবে মন্তেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী খাঁটি খোয়া ক্ষীর। সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে ।

About Post Author