সময় কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বেশ কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সেখানকার পড়ুয়াদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই সরব। আর এই ছাত্র আন্দোলনের জেরে ২২ দিন ধরে উত্তাল বিশ্বভারতী।কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাধের এই বিশ্ববিদ্যালয় কেন আজ অশান্ত।

বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বাণী। সেই শান্তির বাণী আজ উধাও শান্তি নিকেতনের বিশ্বজোড়া নামের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। অশান্তির শুরুটা হয়েছিল কোভিড মহামারী কেটে যাওয়ার পর অনলাইন পরীক্ষার বদলে অ লাইন পরীক্ষার সিদ্ধান্ত এবং বহিরাগত ছাত্রদের হোস্টেল না খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে উপাচার্যের অনড় থাকা নিয়ে। পরবর্তীকালে ছাত্র ভর্তি না করা, গবেষণারত পড়ুয়াদের রিসার্চ পেপার জমা না নেওয়া, এরই প্রতিবাদে গত ২২ দিন ধরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে চলছে পড়ুয়াদের ধরনা। এরই মাঝে পড়ুয়ারা উপাচার্যের বাসভবনের গেট পেরিয়ে ঢুকতে গেলে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেধে যায়। উপাচার্যের গেটের সামনেই পড়ুয়াদের ধরনা মঞ্চ থেকে বার বার উপাচার্যকে তাদের দাবি নিয়ে আলোচনায় বসার আর্জি জানানো হয়। কিন্তু উপাচার্য কর্নপাত করেননি।এইসব নিয়েই সরব হয়েছেন সর্বস্তরের পড়ুয়ারা। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয় বিশ্বভারতী।
এই আন্দোলন চলাকালীনই সমাবর্তন উৎসব বাতিল থেকে শুরু করে ঐতিহ্য ময় পৌষমেলা না করার সিদ্ধান্ত নেন উপাচার্য।আর সেই পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার পূর্বপল্লীর বাসভবন থেকে বেরোন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী । বেরিয়েই তিনি সংবাদ মাধ্যমের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি সংবাদ মাধ্যমের মোবাইল ও ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশকে। উপাচার্যের এমন নির্দেশে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই নিয়েই বুধবার সরব হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জেলা নেতৃত্ব।

এছাড়া বিশ্বভারতীয় উপাচার্যের প্রশাসনিক পদক্ষেপের পক্ষে মোটেই পাশে থাকছেন না অধ্যাপক-অধ্যাপিকা এবং আশ্রমিকদের একাংশও। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিশ্বভারতীর উপাচার্যের স্বৈরাচারী মনোভাবের জন্য তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।কিন্তু পড়ুয়া থেকে রাজ্যের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এই রকম একটি ঐতিহ্য মণ্ডিত বিশ্ববিদ্যালয় আর কতদিন ধরে একটু একটু করে তার সুনামের তকমা খোয়াতে থাকবে? কবে আবার এই প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজকর্ম ফিরে আসবে তা সময়ই বলবে।


More Stories
বিধায়ক শঙ্করের হাত ধরে বারাসাতে সৃজন, কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা
হেলমেট নেই, পুলিশের হাতে হোমগার্ডের জরিমানা
মিলেছে”প্রমাণ “, বারাসাত কলেজে গোপনে মদ্যপান ও যৌনশিক্ষার আসর চলার অভিযোগ