Home » গঙ্গাসাগর মেলার শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে

গঙ্গাসাগর মেলার শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে

সময় কলকাতা ডেস্কঃ মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় জমে গঙ্গাসাগর মেলায়। আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই গঙ্গাসাগর মেলা। জানা গিয়েছে,২০২৩-এর ৯ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত হবে গঙ্গাসাগর মেলা। তার আগেই গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলা। পুণ্যার্থীদের সুযোগ সুবিধার কথা মাথায় রেখে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্যপ্রশাসন। জানা গিয়েছে, এবারের গঙ্গাসাগরের মেলার বিশেষ আকর্ষণ হল সাগর আরতি। আর কুম্ভস্নান শুরু হচ্ছে ১৪ তারিখ। পুণ্যস্নানের সময় ২৪ ঘণ্টা। গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে ২২৫০টি সরকারি বাস, ৫০০ বেসরকারি বাস চালু থাকবে। ৩২টি ভেসেল, ১০০টি লঞ্চ চলবে। ১০টি ফায়ার স্টেশন, ২৫টি দমকলের ইঞ্জিন মোতায়েন রাখা হবে বলেই সূত্রের খবর।

বুধবার নবান্নে সাগরমেলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ মেলার পরিকাঠামো ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত দপ্তরের সচিবরা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ও সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ট্রেন বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন রেলমন্ত্রীর কাছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবারই সাগরমেলার সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। এর পাশাপাশি মেলার সামগ্রিক প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেন সেচমন্ত্রী সহ সাগরের বিধায়ক তথা সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। এদিনের বৈঠকে সেচমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা বলেন, ‘আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে আট নম্বর লট থেকে কচুবেড়িয়া ও নামখানা থেকে বেনুবন পয়েন্টে মুড়িগঙ্গা নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ করা হবে। গঙ্গাসাগর মেলায় আগত তীর্থযাত্রীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকেও কড়া নজরদারি চলেছে।’

এর আগে স্বাস্থ্যভবনে স্বাস্থ্য অধিকর্তার নেতৃত্বে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্যকর্তারা। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বিগত দুই বছরের মতনই করোনা প্রতিরোধের যথাযথ বন্দোবস্ত করা হবে। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও যাতে পুরোপুরি রোধ করা যায়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিকেল সংস্থান রাখা হবে। ইতিমধ্যেই এই কাজের জন্য অন্তত ৪১ জন মেডিক্যাল অফিসার, ২০ জন নার্স ও বেশ ক’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর,বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ২ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দের হিসাব পেশ করা হয়েছে।ইতিমধ্যে একাধিক মন্ত্রী সাগরের পরিকাঠামো নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকও করেছেন। ৯ থেকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে সাগরমেলা উপলক্ষে ১০৩ জন মেডিক্যাল অফিসার থাকবেন মেলার বিভিন্ন প্রান্তে। এর মধ্যে ১৮ জন থাকছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এ ছাড়াও প্রয়োজনে অন্যান্য স্বাস্থ্যজেলা থেকে আনা হবে অতিরিক্ত চিকিৎসক। সাগর মেলার পাঁচটি পয়েন্টে থাকছে বিশেষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

About Post Author