Home » ফের আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ,চাঞ্চল্য মালদহে

ফের আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ,চাঞ্চল্য মালদহে

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ফের আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভ মালদহে।প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা তালিকায় কলেজের পার্ট টাইমার, হাইস্কুল শিক্ষক ও প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকের স্ত্রী,এম এস কে শিক্ষক,পঞ্চায়েত প্রধান,উপ প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্য এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর নাম দেখে চক্ষু চড়কগাছ এলাকাবাসীর! এই খবর চাউর হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়। যদিও আবাস যোজনা দুর্নীতির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে বিডিও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

জানা গিয়েছে, আবাস যোজনা তালিকায় মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নম্বর ব্লকের ৯ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি বুথে ব্যাপক হারে দুর্নীতি হয়েছে বলেই অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। বিশেষ করে মশালদহ ও দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে আবাস যোজনা তালিকায় স্বজন-পোষনের অভিযোগ তুলেছেন তারা। অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত রেখে কাটমানির বিনিময়ে অবস্থা সম্পন্নদের তালিকায় নাম তোলা হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত তালিকায় একাধিক সরকারি চাকরিজীবী ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। এমনকী তালিকায় নাম রয়েছে সামসী কলেজের পার্ট টাইমার মোজাহিদ রহমান,মহেন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের স্ত্রী ফারহানা পারভীন,দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা আনোয়ারা বিবি ওরফে হাসনারা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম,মালদহ অমৃতি ইংলিশ বাজার এলাকার এমএসকে শিক্ষক মহম্মদ এনামুল হক ও সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধনিপাড়া প্রাইমারি স্কুলের আংশিক শিক্ষক মহম্মদ আরিফের স্ত্রী তাজেনুর বেগমের।সরকারি ভাবে সার্ভে হওয়া সত্ত্বেও এদের নাম তালিকায় কি করে থেকে গেল? স্বাভাবিক ভাবেই তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

এ প্রসঙ্গে অভিযোগকারী তথা হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নং ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির কংগ্রেসের সদস্য খলিলুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা তালিকায় প্রকৃত উপ ভোক্তাদের বঞ্চিত রেখে কাটমানির বিনিময়ে শাসকদলের নেতাকর্মীরা চাকরিজীবী ও অবস্থা সম্পন্নদের নাম নথিভুক্ত করেছে। এই মর্মে গত ১৯ ডিসেম্বর পুনরায় সার্ভের দাবিতে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নং ব্লকের বিডিও বিজয় গিরির নিকট অভিযোগ করতে গেলে বিডিও বিজয় গিরি সরাসরি অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। তাই জেলা শাসকের নিকট দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন তিনি।

অন্যদিকে এপ্রসঙ্গে প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, সরকারি কর্মচারী, শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের নাম তালিকায়। বঞ্চিত গরিব সাধারণ মানুষ। চারিদিকেই ব্যাপক হারে দুর্নীতির জন্য তৃণমূলের। তালিকায় নাম তোলার জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তোলা হয়েছে টাকা। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি। সমীক্ষা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের।

অন্যদিকে এহেন অভিযোগ জানাজানি হতেই মহেন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম ও সামসী কলেজের পার্ট টাইমার মোজাহিদ রহমান ব্লকে গিয়ে স্বেচ্ছায় নামগুলো বাদ দিয়ে দেওয়ার জন্য বিডিওর কাছে একটি আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, আবাস যোজনা প্রকল্প সাধারণ গরিব মানুষদের জন্য। দেশে প্রত্যেক নাগরিকের যাতে মাথার ছাদ পাকা হয় সেই জন্য এই প্রকল্প। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এর সুবিধা পাচ্ছে না গরিব মানুষেরা। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অভিযোগের সর্বোচ্চ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এই বিক্ষোভ পঞ্চায়েত ভোটের আগে শাসকদলকে যথেষ্ট বিপাকে ফেলতে পারে। এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

About Post Author