Home » বিলকিসের মামলা থেকে সরলেন বিচারপতি

বিলকিসের মামলা থেকে সরলেন বিচারপতি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ জানুয়ারি : বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি বিরোধী মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন অন্যতম বিচারপতি ছিলেন বেলা এম ত্রিবেদী । ফলে বুধবার বিলকিস বানো ধর্ষণ কাণ্ডের দোষীদের জামিন পাওয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয় নি। জানা গিয়েছে, বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী সরে যাওয়ায় নতুন বেঞ্চে উঠবে মামলা। আপাতত মুলতবি হয়ে গেল মামলা।

অন্ত্বসত্ত্বা বিলকিসকে গণধর্ষণ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুনের অভিযোগে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১৫ আগস্ট গুজরাট সরকারের নির্দেশে ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়া হয়। ধর্ষকদের বীরের সম্মান দিয়ে বরণ করা হয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে। তারপরেই গুজরাট সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিলকিস বানো। যা আসে বিচারপতি অজয় রাস্তোগি এবং বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদীর বেঞ্চে। উল্লেখ্য, ২০০৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত গুজরাট সরকারের আইনসচিব ছিলেন বেলা এম ত্রিবেদী। সেই কারণেই মামলার নিরপেক্ষতার স্বার্থে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। এদিন অপর বিচারপতি রাস্তোগি জানান, গুজরাট সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন বিলকিস নিজে, তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে গুজরাটের সবরমতী এক্সপ্রেসের কয়েকটি কোচে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় গোটা রাজ্যে। আগুনে ৫৯ জন করসেবক নিহত হন। অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গোধরায় লাগে দাঙ্গা। এলাকা থেকে সপরিবারে পালিয়ে গিয়ে বিলকিস বানো একটি খোলা মাঠে আশ্রয় নেন। সেসময় তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সেখানেই তাঁকে গণধর্ষণ এবং পরিবারের ৭ জনকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু করে সিবিআই। দোষী সাবস্ত হন ১১ জন। ২০০৮ সালে প্রত্যেককেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।  মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাদের মুক্তি দিয়েছে গুজরাট সরকার। যা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। দেশজুড়ে অসন্তোষের হাওয়া বইতে শুরু করে। ভারতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের কাছে এই মামলার শুনানির আবেদন জানায় বিলকিসের আইনজীবী।

About Post Author