সময় কলকাতা ডেস্ক,১৭ জানুয়ারিঃ যোশীমঠ নিয়ে এবার জনস্বার্থ মামলা শুনল না সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয় যোশীমঠ নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার হাইকোর্ট নেবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি পি.এস নরসিমহার এবং বিচারপতি পারদিওয়ালার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন, এই বিষয়টি উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের দেখা উচিত। জানা গিয়েছে, যোশীমঠ বিপর্যয়ের ঘটনাটির দিকে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিশেষভাবে নজর দেওয়ার দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জ্যোতিষ পীঠের ৪৬ তম শঙ্করাচার্য, স্বামী অভিমুক্তেশ্বকানন্দ সরস্বতী। আবেদনপত্রে জোশীমঠে বিপর্যস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি তোলেন তিনি। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি পি.এস নরসিমহার এবং বিচারপতি পারদিওয়ালার ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। কিন্তু, শুনানির শুরুতেই মামলা কার্যত খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে আবেদনকারীর উদ্দেশ্যে কার্যত ক্ষোভের সুরে শীর্ষ আদালত স্পষ্টত জানায়,‘আমরা চাই না কেউ এই প্রক্রিয়াগুলি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হওয়ার জন্য ব্যবহার করুক।’

এদিকে, যোশীমঠ ঘিরে আতঙ্ক ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যোশীমঠে কান পাতলেই শোনা যাবে বহু মানুষের আর্তনাদ। ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। তারই মধ্যে আরও বিপদ বাড়ছে যোশীমঠের। ক্রমশ চওড়া হচ্ছে যোশীমঠের বাড়ি ও রাস্তাঘাটের ফাটল। বিগত কয়েকদিনে কমপক্ষে ২.২ ফুট বসে গিয়েছে যোশীমঠের মাটি। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, গত ২ জানুয়ারি জোশীমঠে কোনও ছোটখাটো বিস্ফোরণ হয়। এরপর থেকেই দ্রুতগতিতে মাটি ধসে যাচ্ছে, যার ফলে বাড়িঘরেও ফাটল ধরছে। সম্প্রতি জোশীমঠের বাসিন্দাদের যাতে শিকড় উপড়ে না যায়, তার জন্যই ইতিমধ্যেই একটি মডেল শহর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট। যোশীমঠের ভাঙন রুখতে এই সংস্থার তরফে একটি বিপর্যয় প্রতিরোধক মডেল শহর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জোশীমঠের যে সমস্ত বাসিন্দারা বাড়িতে ফাটল ধরার কারণে ঘরছাড়া হয়েছেন, তারা এরফলে উপকৃত হবেন।

একদিকে যেমন সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের তরফে মডেল শহর গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তেমনই কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের তরফেও তিন-স্তরীয় অ্যাকশন প্ল্যানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যে বিল্ডিংগুলি সম্পূর্ণ বিপদজনক, সেগুলিকে ভেঙে ফেলতে হবে। বাকি ৪ হাজার বিল্ডিং কতটা সুরক্ষিত ও মজবুত, তার সেফটি অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিবিআরআই-র ডিরেক্টর আর প্রদীপ কুমার। সোমবারই সিবিআরআই-র ডিরেক্টর সংস্থার বিজ্ঞানীদের নিয়ে যোশীমঠ ঘুরে দেখেন এবং পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ ও উত্তরাখণ্ড সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তাঁরা। সিবিআরআই-র তরফে একটি বিপর্যয় প্রতিরোধক মডেল শহর গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে আধুনিক খরচ সাপেক্ষ বিল্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুরক্ষিত জায়গা চিহ্নিত করে পরিকল্পনামাফিক শহর তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর