সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ জানুয়ারি: ৭৪তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে বাঙালির মুকুটে জুড়ল নয়া পালক। ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার, পদ্মবিভূষণে ভূষিত করা হল ওআরএস-এর জনক ডাক্তার দিলীপ মহলানবিশকে। এ বছর ৬ জন পদ্মবিভূষণ, ৯ জন পদ্মভূষণ এবং ৯১ জন পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গত বছরও পদ্ম পুরস্কার এসেছিল বাঙালির ঝুলিতে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সংগীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এই পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন গত বছর। যদিও তাঁরা এই সম্মান প্রত্যাখ্যান করেন। এছাড়াও এই সম্মান পেয়েছিলেন অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সংগীতশিল্পী রশিদ খান।

উল্লেখ্য,গত ১৬ অক্টোবর প্রয়াত হন ওআরএস-এর জনক বিশিষ্ট চিকিৎসক দিলীপ মহলানবিশ। মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল। ভারত -বাংলাদেশ (পূর্ব পাকিস্তান ) সীমান্তে কলেরা অতিমারীর আকার নিয়েছে। সেসময় কাতারে কাতারে মানুষকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি, স্রেফ তাঁর ব্রেনচাইল্ড ওআর এসের মাধ্যমে -ধমনীতে স্যালাইন প্রবেশ করিয়ে তিনি বাঁচান অসংখ্য প্রাণ। তাঁর হাত ধরেই স্বীকৃতি পায় ওআরএস। ১৯৬৪ সালে ইউ এস আর্মির ক্যাপ্টেন ফিলিপসকে তত্ত্বগতভাবে ও আর এস এর বলা হলেও ওআরএসের প্রথম ব্যাপক সফল প্রয়োগ ঘটান দিলীপ মহলানবিশ। ওআরএস দ্রবণের সফল প্রয়োগের পথ দেখান তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বয়সজনিত অসুখে ভুগছিলেন তিনি। এরপর ১৬ অক্টোবর দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

ডিহাইড্রেশন বা শরীর থেকে জল কমে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত। এই ধারণা থেকেই নুন-চিনি মেশানো জল খাইয়ে আফ্রিকার বহু মানুষের প্রাণ বাঁচান তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও কলেরা এবং ডায়েরিয়া আক্রান্তদের উপর তা প্রয়োগ করে অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন প্রফেসর দিলীপ মহলানবিশ। আর তা ম্যাজিকের মত কাজ করে। বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় বনগাঁর একটি রিফিউজি ক্যাম্পে মেডিক্যাল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ দিলীপ মহলানবিশ। দীর্ঘদিন ধরে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে কাজ করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি অধ্যাপনাও করেছেন তিনি।

১৯৫৮ সালে তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেন। পরবর্তীকালে লন্ডনে ডিসিএইচ ডিগ্রিও লাভ করেন। এডিনবরা থেকে করেন এমআরসিপি। এরপর মাত্র ২৮ বছর বয়সে কুইন এলিজাবেথ হসপিটাল ফর চিল্ড্রেন-এ রেজিস্টার পদে নিযুক্ত হন তিনি। এই পদে তিনিই প্রথম ভারতীয়, তথা বাঙালি হিসাবে নিযুক্ত হন। ডায়েরিয়া, কলেরায় মানুষকে জীবনের পথ দেখানো অধ্যাপক চিকিৎসক ১৯৯১ সালে সল্টলেকের বাড়িতে তৈরি করেন ‘সোসাইটি ফর অ্যাপ্লায়েড স্টাডিজ়’। কার্যত জীবনের শেষদিকেও মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। সমাপ্তি হল একটি বর্ণময় অধ্যায়ের।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
বেজি কি সাপের বিষে কাবু হয় না?