Home » শিয়ালদা থেকে শেষ হয়ে গেল ডিজেল যুগ, শেষবারের মতো ডিজেল ইঞ্জিনে ছাড়লকা কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস

শিয়ালদা থেকে শেষ হয়ে গেল ডিজেল যুগ, শেষবারের মতো ডিজেল ইঞ্জিনে ছাড়লকা কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ ফেব্রুয়ারি: একটা সময় ছিল কয়লার স্টিম ইঞ্জিনে টানা ট্রেন চলত। সেটা ছিল ব্রিটিশ আমল। কয়লার ইঞ্জিনের কালো ধোঁয়া এবং অদ্ভুদ সুন্দর শব্দ করতে করতে ছুটে যেত ঢাকা মেল, খুলনা মেল, দার্জিলিং মেল বা বোম্বে মেলের মতো ট্রেন। কালের নিয়মে একদিন স্টিম ইঞ্জিন ইতিহাস হয়ে গেল। ভারতীয় রেলে শুরু হয় ডিজেল ইঞ্জিনের যুগ। ডিজেল ইঞ্জিন কয়লায় টানা ইঞ্জিনের তুলনায় কম দূষণ ছড়ায়, সেই সঙ্গে আরও দ্রুতগামী ছিল। পরবর্তী সময়, ধীরে ধীরে রেললাইনে বৈদ্যুতিকরণের কাজ শুরু হয় সেই আশির দশক থেকে। বর্তমানে ভারতীয় রেলের সিংহভাগই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ট্র্যাকে নেমেছে অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক ইঞ্জিন। ধীরে ধীরে বাতিলের খাতায় চলে যাচ্ছে ডিজেল ইঞ্জিন। পূর্ব রেলের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন শিয়ালদা থেকে গুটিকয় ডিজেল চালিত এক্সপ্রেস ট্রেন চলছিল। কিন্তু সোমবারের পর থেকে আর কোনও ডিজেল চালিত ইঞ্জিনে টানা ট্রেন আর ছাড়বে না শিয়ালদা স্টেশন থেকে।

১৩১৪৯/১৩১৫০ শিয়ালদা – নিউ আলিপুরদুয়ার কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস ছিল এই ডিভিশনের শেষ ডিজেল ইঞ্জিনে টানা ট্রেন। রবিবার রাতে শেষবারের জন্য পূর্ব রেলের দুটি ডবলুডিএম ৩এ ডিজেল ইঞ্জিন কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসকে নিয়ে রওনা হয় আলিপুরদুয়ারের দিকে। এরপরই শিয়ালদা ডিভিশনে শেষ হয়ে যায় ডিজেল ইঞ্জিনের স্বর্ণযুগ।

এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে কোনও ত্রুটি রাখেননি পূর্ব রেলের কর্তারা। দুটি ডিজেল ইঞ্জিনকে সাজানো হয়েছিল ফুলের মালায়। লাগানো হয়েছিল প্ল্যাকার্ড। সোমবার থেকে ট্রেনটি নিয়ে যায় ইলেকট্রিক লোকমোটিভ।

এর আগে উত্তরবঙ্গগামী দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস-সহ অন্যান্য ট্রেন ইলেকট্রিক ইঞ্জিনে চলাচল শুরু করেছে। শুধু কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসই চলছিল ডিজেল ইঞ্জিনে। কারণ এই ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ির পরিবর্তে শিলিগুড়ি জংশন হয়ে নিউ আলিপুরদুয়ার যায়। ওই শাখায় বৈদ্যুতিকরণ করা ছিল না। এবার সেটা হয়ে যাওয়ায় ডিজেল ইঞ্জিন উঠিয়ে দিয়ে ইলেকট্রিক ইঞ্জিন দিয়ে পাঠানো হচ্ছে।

About Post Author