সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারি: মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের মামলার শুনানি ছিল কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে। এই মামলায় নজিরবিহীনভাবে ইডি-র আইনজীবী তুলে আনলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রসঙ্গ। বলেলন, একজন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ১০০ বছর এগিয়ে দিয়েছিলেন, অন্যজন ১০০ বছর পিছিয়ে দিলেন। এর কড়া প্রতিবাদ করলেন পার্থর আইনজীবী। আদালতে তখন ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত স্বয়ং পার্থ চট্টোপাধ্যায়। টানটান উত্তেজনার মধ্যে এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছেন বিচারক।

আদালত সূত্রে খবর, শুনানি চলাকালীন ইডি-র আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি আচমকাই পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রসঙ্গ তুলে আনেন। তিনি নাটকীয়ভাবে ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ১৯৫২ সালের ৬ অক্টোবর তারিখ দুটি উল্লেখ করেন। এরপরই তিনি বলেন, ‘এই দু’দিন দু’জন মহান পুরুষ জন্মগ্রহন করেছিলেন। একজন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং অন্যজন কুখ্যাত পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যিনি বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন’। এরপরই কটাক্ষের সুরে তাঁর মন্তব্য, ‘একজন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ১০০ বছর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। অন্য জন ১০০ বছর পিছিয়ে দিলেন’।

এই মন্তব্যের পরই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী জীবনকৃষ্ণ শ্রীবাস্তব এই প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যাসাগর অসামান্য কাজ করেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর মক্কেল পার্থ চট্টোপাধ্যায় কী এমন কাজ করেছেন যে তিনি শিক্ষা ব্যবস্তাকে পিছিয়ে দিয়েছেন। এরপরই তাঁর সাওয়াল, অন্যের বাড়িতে (অর্পিতা মুখোপাধ্যায়) টাকা উদ্ধার হওয়ার অপরাধে আমার মক্কেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি বিধায়ক আইনও প্রয়োগ করা হয়নি’। তিনি আরও বলেন, ‘ইডি-র এক্তিয়ার নেই এই ধরণের মামলা দেওয়ার। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’। পরে তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে ইডি-র আইনজীবী ফের প্রভাবশালী তত্ত্ব সামনে এনে জামিনের বিরোধীতা করেন। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক রায়দান স্থগিত রেখেছেন।


More Stories
অরুণ ভৌমিকের ১৪ দিনের জেল হেফাজত
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস
রোহিঙ্গা ঠেকানো লক্ষ্য বিজেপির, বললেন খাদ্যমন্ত্রী