সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ ফেব্রুয়ারি: শিব হলেন ভারতের আদি দেবতা। শিব হলেন একাধারে সৃষ্টি ও ধ্বংসের দেবতা। আবার শক্তি ও শিবের প্রতীক হল শিবলিঙ্গ। পৌরাণিক মতে মহাশিবরাত্রির দিনই ভগবান শিব ও পার্বতীর বিয়ে হয়েছিল। এর মাহাত্ম্য কিন্তু আরও গভীরে। আজ অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রি। প্রতি বছর ফাল্গুন কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে চার প্রহর শিবের পুজো করলে সমস্ত দুঃখ, কষ্ট ও সংকট দূর হয়। ভগবান শিব অসীম ক্ষমতার অধিকারী হলেও তিনি অল্পতেই সন্তুষ্ট। তাঁর পুজোর পদ্ধতিও খুব সরল। মনে ভক্তি রেখে সামান্য অর্ঘ্য অর্পণ করলেই সন্তুষ্ট হন দেবাদিদেব। আসুন জেনে নেওয়া যাক শিব পুজোর পদ্ধতি এবং রীতিনীতি। বেদে মহাদেবের পুজোর জন্য কয়েকটি ফুল-পাতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এবার সেগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
এ বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি চতুর্দশী তিথি শুরু হচ্ছে রাত ৮টা ২ মিনিটে। পরের দিন অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৪টে ১৮ মিনিটে এই তিথি সমাপ্ত হবে। এই সময়ের মধ্যে চার প্রহর পুজো করলে মিলবে কাঙ্খিত ফল।
বেল পাতা –
শিবপুজোর অন্যতম উপকরণ হল বেল পাতা। অতি সামান্য একটি বেল পাতাতেই সন্তুষ্ট হন মহাদেব। মহাদেবের আরেক নাম ত্রৈম্বক, তাঁর তিনটি নয়নের জন্যই এই নাম। বৈদিক মতে বেলপাতাকেও একত্রে শিবের ত্রি-নয়নের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই ধরে নেওয়া হয় বেল পাতাতে শিব সবচেয়ে বেশি তুষ্ট হন।
অপরাজিতা ফুল –
সমুদ্র মন্থনের সময় সমুদ্রগর্ভ থেকে উঠে এসেছিল মারাত্মক বিষ বা হলাহল। যার জেরে সৃষ্টির বিনাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্তিতিতে সমগ্র জগতকে বাঁচাতে দেবাদিদেব মহাদেব নিজ কন্ঠে ধারণ করেছিলেন সেই বিষ। ফলে তাঁকে নীলকন্ঠ বলা হয়। এমনকি তাঁর গোটা শরীরই নীলবর্ণ ধারণ করে। অপরাজিতা ফুলের রঙ মহাদেবের গাত্রবর্ণের মতো গাঢ় নীল। মহাদেবের অপার সহ্য শক্তির প্রতীক এই অপরাজিতা ফুল তাই শিব পুজোর অন্যতম প্রধান উপকরণ।
আকন্দ ফুল –
শাস্ত্রমতে মহাশিবরাত্রিতে আকন্দ ফুল দিয়ে পুজো করার রীতি অতি প্রাচীন। শিবের অত্যন্ত প্রিয় বলেই ধরা হয়। মনে করা হয় আকন্দ ফুলের গন্ধে হারানো স্মৃতি ফিরে আসে। তাই আকন্দ ফুল দিয়ে মহাদেবের পুজোর রীতি প্রচলিত।
কল্কে ফুল –
দেবাদিদেব মহাদেব হলেন ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রতীক। আর গাঢ় হলুদ রঙ হল ত্যাগের প্রতীক। বাংলার মাঠে ঘাটে অবহেলায় ফুটে থাকা কল্কে ফুলের রঙও গাঢ় হলুদ, তাই এই ফুলেও মহাদেব সন্তুষ্ট হন।
ধুতরা ফুল ও ফল –
শিব পুরাণ অনুসারে ধুতরা ফুল ও কাটাযুক্ত ধুতরা ফল ছাড়া শিবের পুজো অসম্ভব। মনে করা হয়, সন্তান প্রাপ্তির জন্যই ধুতরা ফুল ও ফল নিবেদন করা হয় দেবেদিদেব মহাদেবকে।
বেল –
মহাদেবকে সবরকমের ফল দেওয়া যায়। তবে বেল হল শিবের অতি প্রিয় একটি ফল। শরীর, স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং দীর্ঘায়ু লাভের জন্য বেল ফল নিবেদন করা হয় মহাদেবকে।
শ্বেত চন্দন –
পুরাণ মতে শ্বেত চন্দন দিয়ে শিবলিঙ্গে তিলক কাটলে মহাদেব তুষ্ট হন। জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি পেতে হলে শিবলিঙ্গে চন্দনের প্রলেপ দেওয়া আবশ্যক।
দুধ ও মধু –
ভোলেনাথের পুজো করতে হলে প্রথমে নিজেকে শুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। ফলে নিজেকে সম্পূর্ণ শুদ্ধ করে নিতে তিল মেশানো ফোটানো জল দিয়ে স্নান করা উচিৎ। এরপর শিবলিঙ্গকে দুধ ও মধু মেশানো জল দিয়ে স্নান করালে কাঙ্খিত ফল মেলে। এটি অত্যন্ত শুভ হিসেবে ধরা হয়। শিবের মাথায় দুধ ও মধু মেশানো জল ঢাললে সাংসারিক অশান্তি দূর হয়।


More Stories
সারিন্দার পাখি মঙ্গলাকান্ত গান ভুলেছেন অসুস্থতায়
রবীন্দ্রনাথের পরলোক চেতনা ও প্রেতচৰ্চা
“ইতিহাসের পাতা থেকে” কালজয়ী : সাহিত্যের মণিমুক্তো