সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ ফেব্রুয়ারি: বালাসাহেব ঠাকরে তৈরি করেছিলেন শিবসেনা। প্রতীক ছিল তির-ধনুক। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের রায়ে বালাসাহেবের ছেলে উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে দলের নাম ও প্রতীক বেরিয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একনাথ শিন্ডেরাই আসল শিবসেনা। তারাই ওই নাম আর তির-ধনুক প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন। তারপর শনিবারই দেখা গেল মাতোশ্রীর সামনে জমায়েত হওয়া কয়েক হাজার সমর্থকের উদ্দেশে উদ্ধব ভাষণ দিলেন ছাদ খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে। ছেলে যেন ফিরিয়ে আনতে চাইলেন বাবা বালাসাহেবের স্মৃতি। এদিন গাড়ির উপরে দাঁড়িয়ে উদ্ধব তীব্র আক্রমণ করেন নির্বাচন কমিশনকে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চাকরে পরিণত হয়েছে। যা কখনও হয়নি তাই তারা করেছে।’ দলের নাম ও প্রতীক চুরি হয়েছে। যারা তা চুরি করেছে তাদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে। এদিন কয়েক হাজার কর্মী সমর্থকের উদ্দেশে বালাসাহেব-পুত্র এও বলেন, ‘আগামী দিনে যে সব নির্বাচন আসছে তার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন।’

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন তাঁরই সহকর্মী একনাথ শিণ্ডে। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। তারপরেই নিজেদের আসল ‘শিব সেনা’ বলে দাবি করে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি চান শিণ্ডে। এবিষয়ে কমিশনকে উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছিলেন, ‘শিণ্ডে নিজে দলত্যাগ করেছেন, তিনি কখনই দলকে নিজের বলে দাবি করতে পারেন না।’ এরপর গত অক্টোবরে দলের প্রতীক ‘তির-ধনুক’ ‘ফ্রিজ’ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। জানিয়ে দেয়, আসন্ন নির্বাচনগুলিতে উদ্ধব ঠাকরে বা একনাথ শিণ্ডে, কোনও শিবিরই দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। অবশেষে কাটল জট। দলের নাম-প্রতীক দুই ব্যবহারের অনুমতি পেল শিণ্ডে শিবির। নিঃসন্দেহে এই সিদ্ধান্তে অস্বস্তিতে পড়ল উদ্ধব শিবির।

যদিও একনাথ শিন্ডের গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কমিশন সবটাই খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা প্রথম থেকেই বলেছিলাম আমরাই আসল শিবসেনা। এবার সেটাই প্রমাণিত হল।’ এবিষয়ে উদ্ধব ঠাকরের ঘনিষ্ঠ নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, তাতে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।’


More Stories
প্রশ্নপত্র বিরোধী বিল পেশ,তুমুল বিশৃঙ্খলা সংসদের উভয়পক্ষে
অনুমতি ছাড়া তৃণমূলের মিছিল, গ্রেফতার কুণাল ঘোষ
কুণাল-কল্যাণ :কলকাতায় চ্যাংদোলা, দিল্লিতে সাসপেন্ড