Home » রাজ্য জুড়ে‘পেন ডাউন’ সরকারি কর্মচারীদের

রাজ্য জুড়ে‘পেন ডাউন’ সরকারি কর্মচারীদের

সময় কলকাতা ডেস্ক,২০ ফেব্রুয়ারিঃ ডিএ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের তরফে মামলা চলছে ২০১৬ সাল থেকে। SAT ও মহামান্য হাইকোর্ট একাধিকবার সরকারি কর্মীদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে সরকার তা কার্যকর করেনি। এই পরিস্থিতিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকারের SLP ডিসমিস করেনি। যদি তা আগামী দিনে করেও, তবে তা হবে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। কারণ, সরকার দিনের পর দিন এই মামলা লড়েছে, সাধারণ মানুষের করের টাকা খরচ করেছে শুধুমাত্র ডিএ থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত করার জন্য। আইনজীবীদের যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের রায় দেশের আইন হিসেবে গণ্য হয়। যদি রাজ্য সরকারের বিপক্ষে যায় তা হবে গোটা দেশের সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের জয়। সেক্ষেত্রে এই মামলার রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিজেপি-কংগ্রেস-বাম যে সরকারই রাজ্যে শাসন করুক না কেন, সবাইকে এই নির্দেশ মানতে হবে।

সোমবার থেকে দুদিনের মহার্ঘভাতা আদায়ের দাবিতে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে কর্মবিরতি বা “পেন ডাউন”। জেলায় জেলায় একাধিক সরকারি দফতরে কর্মবিরতি পালন হয় এদিন। সোমবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি, ১২ জুলাই কমিটি, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ২০০৯ থেকে এখনও পর্যন্ত এআইসিপিআই অনুসারে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবি জানিয়ে আসছে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সদস্যরা। সোমবার দিনভর জেলায় জেলায় অধিকাংশ সরকারি দফতরগুলোতে চিত্রটা ছিল একইরকম। সরকারি দফতরে হাজির দেওয়ার পরে ‘পেন ডাউন’ করেন কর্মচারীরা। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে সারাদিন কর্মবিরতি পালন করেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। একাধিক জেলা আদালতে কোর্টের কর্মচারী সংগঠন কর্মবিরতি পালন করে। ওয়েস্ট বেঙ্গল কোর্ট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আসানসোল আদালত চত্বরেও কর্মবিরতি পালন করে সরকারি কর্মচারীরা। এদিন মোট ১৯ দফা দাবিতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বারাসত আদালতের কর্মচারীরাও এদিন সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করেন। যত দ্রুত সম্ভব ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দেয় কলকাতা পুরসভার সরকারি কর্মচারীদের যৌথ মঞ্চ।

উল্লেখ্য, এর আগে মাসের শুরুতে ১ ফেব্রুয়ারি ২ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি পালন করে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলিও। তারাও এদিন ২৪ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করেন। অন্যদিকে, শহীদ মিনারের তলায় ডিএর দাবিতে অনশন বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সদস্যরা। ডিএর দাবিতে টানা ১৮ দিন ধরে চলছে অনশন। পাশাপাশি, ধর্মতলায় সোমবার একটি ধর্না মঞ্চের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন জেলার সরকারি কর্মচারীরা এদিনের ধর্নায় যোগদান করেন।
তবে এদিনের কর্মবিরতি থেকে হাসপাতালসহ জরুরি পরিষেবাগুলিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অফিসে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর করে আন্দোলনে সামিল হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে। জেলায়, জেলায় মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মচারীদের কর্মবিরতির জেরে সরকারি কাজ ব্যাহত হয় একাধিক সরকারি দফতরে। সরকারি কর্মাচারীদের ডিএ আটকে রাখার বিষয়ে সোমবার সকালে রাজ্য সরকারে ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি এদিন বলেন, ‘ওঁদের কথা শোনা হয়নি। কেউ কথাই বলেনি ওঁদের সঙ্গে। ওঁরা যদি স্ট্রাইক করে, কী অবস্থা হবে রাজ্যের ?’


ডিএ মামলায় হাই কোর্টের নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ নয় বলেও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলার শুনানির উপর আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এরইমধ্যে সরকারি কর্মচারী সংগঠন গুলির কর্ম বিরতির ডাক। রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দিতে হলে খরচ হবে ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। সরাসরি সরকারি কর্মচারী যাঁরা, তাঁদের জন্য লাগবে ১১ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্তদের জন্য লাগবে ১৮ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের ১১,৬১১ কোটি টাকা লাগবে বলে জানানো হয়েছে।

২০ মে হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। যার জেরে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ৩১ শতাংশ হারে ডিএ দিতে হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও ডিএ না দেওয়ায় হাই কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। উল্লেখ, AICPI অনুযায়ী ডিএ দেয় সব রাজ্য। অথচ এই রাজ্য সরকার ২০১১ সালের পর থেকে তা মানছে না বলেই অভিযোগ। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্য সরকার যদি AICPI অনুযায়ী ডিএ দিতে না চায়, তবে তাদের রোপা ২০০৯ সংশোধনী আনা প্রয়োজন ছিল বিধানসভায়। এবং আইন সংশোধন করে ঘোষণা করতে হতো তারা AICPI ফলো না করে নিজস্ব বিধি লাগু করতে চায় সরকারি কর্মীদের জন্য। কিন্তু রাজ্য সরকার বিগত ১১ বছরে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। আবার তারা AICPI-অনুযায়ী ডিএ দেয়ওনি। আর সে কারণেই ‘SAT থেকে শুরু করে হাইকোর্ট এখনও পর্যন্ত ডিএ নিয়ে আইন মোতাবেক যে রায় দিয়েছে তা সরকারি কর্মীদের পক্ষে গিয়েছে।

About Post Author