চুমকি সূত্রধর,সময় কলকাতা,২৭ ফেব্রুয়ারি: ঝালদা পুরসভার নির্বাচনের ফলাফলের কথা মনে পড়ে? ফলাফল হয়েছিল ত্রিশঙ্কু। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে সেই পুরসভার চেয়ারম্যান এখন শীলা চট্টোপাধ্যায়। এসব কালের নিয়মে ভুলে গেলেও এই ত্রিশঙ্কু ফলাফল ঘিরেই যে কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু খুনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল, তা বাংলার রাজনীতি হয়তো ভুলবে না। সোমবার মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘি বিধানসভার উপনির্বাচন ছিল। ৩ বারের তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত সাহার প্রয়াণে এই কেন্দ্রটিতে উপনির্বাচন হয়। তবে হ্যা,ঝালদা ইস্যুটির সঙ্গে এই কেন্দ্রের কোনও মিল না থাকলেও একটি কেন্দ্রের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক কাটাচেড়ার সাক্ষী কিন্তু থেকে যাচ্ছে বাংলা সহ গোটা দেশের মানুষ। এখানে হিংসা ক্ষীণ, তবে যা জোড়াল হয়েছে, তা হল রাজনৈতিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের তেজ। ঘাসফুল শিবির ও পদ্ম শিবিরের দ্বৈরথের ঘটনা শিরোনাম কেড়েছে। আসরে নেমে হাল ধরতে দেখা গিয়েছে কংগ্রেসকেও। বলে রাখা ভালো,এর আগে সমবায় নির্বাচন গুলিতে বাম-বিজেপি আঁতাতের অভিযোগ বারবার প্রকাশ্যে এনেছিল শাসকদল তৃণমূল। কোথাও কোথাও সিপিএমের মিছিলে পদ্মশিবিরের প্রতীকও নজরে পড়েছে রাজ্যবাসীর।

তবে,সাগরদীঘির উপনির্বাচনের আগে সেই কেন্দ্রে প্রচারে গিয়ে সরাসরি অভিযোগ উঠেছিল বিজেপি-কংগ্রেসের আঁতাতের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় দাঁড়িয়ে, রীতিমতো কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসের ছবি দেখিয়ে বলেছিলেন এই আঁতাতের কথা। তবে, পাল্টা দিতে ছাড়েনি কংগ্রেস-বিজেপি দুই শিবিরই। এরই মাঝে, কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার বিষয়টিও চাক্ষুস করে বাংলার মানুষ। প্রচারে গিয়ে কালো পতাকা দেখানো হয় বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকেও। সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে সংখ্যালঘু তাপ খেলতে পিছপা হননি শুভেন্দু অধিকারীও।

এসবের পেরিয়েই সোমবার সাগরদীঘি কেন্দ্রে শুরু হয় উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয় দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মূল চ্যালেঞ্জার কংগ্রেসের বায়রন বিশ্বাস। তৃণমূল এবং কংগ্রেসের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের প্রার্থী দিলীপ সাহা। মোট বুথের সংখ্যা ২৪৬টি। কেন্দ্রের প্রায় ৫০ শতাংশ বুথ স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রস্তুতির কোনও খামতি রাখেনি নির্বাচন কমিশন। ভোটের নজরদারিতে ছিল মোট ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ১০০ শতাংশ বুথে ছিল সিসি ক্যামেরা। ভোটগ্রহণ চলাকালীন চলে ওয়েব কাস্টিংও। তবে, এসবের মাঝেই এই একটি মাত্র কেন্দ্রে পুরোপুরি সুষ্ট নির্বাচন হয়েছে বলে দাবি করা গেল না। জায়গায় জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তিুতে নজর কাড়ল সাগরদীঘি। তবে, মোটের ওপর তা ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে, যা এদিনের ভোটগ্রহণ চলাকালীন নজর কেড়েছে, তার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। ভোটগ্রহণ শুরু হতেই বিধিভঙ্গের অভিযোগ উঠল কংগ্রেস ও বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে। দিও দিলীপ সাহা নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও বিধিভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। হোসেনপুরের ২১০ ও ২১১ নম্বর বুথে ঢুকে পড়ার অভিযোগ উঠল কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বুথে ঢুকে প্রার্থীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন তিনি। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাইরন। এদিকে, অশান্তির জেরে ৫৩ নম্বর বুথ থেকে প্রিসাইডিং অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘণ্টা চারেক ভোট হওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ তোলেন সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, ‘আমি নিজে চোখে দেখে এসেছি কেন্দ্রীয় বাহিনী কী করছে। ওরা মহিলাদের উপর অত্যাচার করছে, ভয় দেখাচ্ছে।’ দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ওরা অনেক ষড়যন্ত্র করছে এখানে তৃণমূলকে হারানোর জন্য।

তবে, ঘিরে ফিরে যা আজকের পিকচার অফ দ্য দে হয়ে থেকে গেল, তা ছিল কংগ্রেস প্রার্থী বায়রস বিশ্বাস এবং বিজেপি প্রার্থী দিলীপ সাহার করমর্দনের ছবি। যে ছবি মনে করে দিল সেই আঁতাতের অভিযোগের কথা, মঞ্চে দাঁড়িয়ে তুলে ধরা সেই ছবির কথা। তবে,আজকের ছবিকে সৌজন্য বিনিময়ের নজির বলেও উড়িয়ে দেওয়া যেতেই পারে। স্বাভাবিকভাবে প্রচারপর্বে সাগরদীঘি ছিল সংবাদের শিরোনামে। কংগ্রেস কর্মীর গ্রেফতার, হাইকোর্টে মামলা করে তাঁর জামিন পাওয়া, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সাগরদিঘি থানার ওসিকে সরিয়ে দেওয়া— সবটুকু ঘিরেই ছিল কৌতূহল, উত্তেজনার পারদ। ভোটের দিনও সেই কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি উঠে এল সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায়। ভোটের দিনও অভিযোগ,পাল্টা অভিযোগে সরগরম সাগরদীঘি।


More Stories
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন
ডিমথেরাপি ও জনরোষ ধূপগুড়িতে,অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে রক্ষা করতে পুলিশ জনতা খণ্ডযুদ্ধ
“মাথা উঁচু করে রাজনীতি “- মুখ্যমন্ত্রী সকাশে মমতাপন্থী বিধায়করা