সময় কলকাতা ডেস্ক,২৮ জানুয়ারিঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। ২০২১ পর্যন্ত গোপাল দলপতির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দফায় দফায় টাকা পাঠিয়েছেন নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত হুগলির যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ। গোপাল দলপতির ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট খতিয়ে এমনটাই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর, ৫০ হাজার, ২৫ নভেম্বর আরও ৫০ হাজার, ২৭ নভেম্বর একলক্ষ টাকা গোপালের অ্যাকাউন্টে জমা করেছিলেন কুন্তল। এরপর ২০২১-এর ২৯ অক্টোবর কুন্তল ৭০ হাজার টাকা পাঠান গোপাল দলপতির অ্যাকাউন্টে। সিবিআইয়ের দাবি, গোপালের অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ নগদ টাকা জমা পড়েছে। যা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য।

এদিকে, গোপাল ও হৈমন্তীর নাম উঠে আসার পর তাঁদের সংস্থা ও কার্যকলাপ সম্পর্কে খতিয়ে দেখছে পুলিশও। সেইসঙ্গে হৈমন্তী কোথায় রয়েছে, তাও তাঁরা জানার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমকে গোপাল দলপতি ফের জানিয়েছেন যে, নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় মাথা রয়েছে। হৈমন্তীর কাছ থেকে এক টাকাও পাওয়া যাবে না বলে দাবি তাঁর। কীভাবে তাঁর বাড়ির আবর্জনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথির হদিশ মিলল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি যোগে গোপাল দলপতি ওরফে আরমান গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের তদন্ত করতে গিয়েই বেশ কয়েকটি সংস্থার সন্ধান মেলে। অভিযোগ, হৈমন্তীর সংস্থাগুলির মাধ্যমেই টাকা পাচার করতেন গোপাল।

সংস্থাগুলির সূত্র ধরেই প্রথমে মধ্যপ্রদেশের রেওয়া অঞ্চলে একটি বণিকসভার হদিশ মেলে। এরপর হদিশ মেলে পূর্ব কলকাতার এন্টালি এলাকার একটি বণিকসভার। এই বণিকসভাগুলি তৈরি হয় ২০১৩ বা ২০১৪ সালে। ওই সময় থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ দুর্নীতি শুরু হয়। মধ্যপ্রদেশের বণিকসভার নেটওয়ার্কে ৫৮টি বেসরকারি সংস্থার সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে এই রাজ্যে রয়েছে ৪৬টি। এছাড়াও কর্ণাটক, ওড়িশা, হিমাচলপ্রদেশ, বিহারে রয়েছে একটি করে সংস্থা। চারটি করে সংস্থা রয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও পাঞ্জাবে। ওই ৫৮টি সংস্থায় লগ্নি হয়েছে প্রায় দশ কোটি টাকা। কলকাতায় যে বণিকসভার সন্ধান মিলেছে, তার নেটওয়ার্কে রয়েছে ৪৬টি বেসরকারি সংস্থা। এর মধ্যে ৩৬টির ঠিকানা রয়েছে এই রাজ্যেই। বিহার, দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও গুজরাতে রয়েছে একটি করে সংস্থা। মধ্যপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডে তিনটি করে সংস্থার হদিশ মিলেছে। এই ৪৬টি সংস্থায় প্রায় ২০ কোটি টাকা লগ্নি করা হয়েছে বলে খবর গোয়েন্দাদের কাছে।


More Stories
রেহাই মিলল না সুজিত বসুর
রূপের মধ্যে অরূপের ছোঁয়া : গাজলডোবা এক ব্রাত্য মুগ্ধতা
আইনি জটিলতা কাটাতে এনসিপিআই-এ মিশে গেলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা