Home » মন্ত্রিসভায় রদবদল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের

মন্ত্রিসভায় রদবদল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের

সময় কলকাতা ডেস্ক,২ মার্চঃ মন্ত্রিসভায় রদবদল করতে চলেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। জেলবন্দী দুই মন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া এবং সত্যেন্দ্র জৈনের পরিবর্তে এবার সৌরভ ভরদ্বাজ এবং অতীশীর নাম প্রস্তাব করে উপরাজ্যপাল ভিকে সাক্সেনার কাছে পাঠিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সেটি পাঠানো হবে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য। রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেই নতুন মন্ত্রীরা শপথ নেবেন বলেই জানা গিয়েছে। আপ সূত্রে খবর, সৌরভকে স্বরাষ্ট্র, পূর্ত ও বিদ্যুতের মত অতি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, অতীশীকে শিক্ষা, শ্রম এবং পর্যটনের মতো দফতরগুলির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। জানা গিয়েছে,সৌরভ ভরদ্বাজ দক্ষিণ দিল্লির গ্রেটার কৈলাশ আসন থেকে নির্বাচিত বিধায়ক। দিল্লি জলবোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের প্রধান মুখপাত্রও তিনি। অন্যদিকে অতীশী কালকাজির বিধায়ক। আপের রাজনীতি সংক্রান্ত কমিটির সদস্য।


ইতিমধ্যেই দিল্লির মদকাণ্ডে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে সিবিআই হেফাজতে দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। অন্যদিকে, বেআইনিভাবে টাকা লেনদেনের অভিযোগে প্রায় ন’মাস আগে থেকেই জেল হেফাজতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন। কার্যত দুই সিনিয়র মন্ত্রীর অবর্তমানে দিল্লির প্রশাসন চালাতে নতুন মন্ত্রী হিসাবে কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে কেজরিওয়ালকে। তার উপর দু’-তিন সপ্তাহের মধ্যেই পেশ করতে হবে বাজেট। এই পরিস্থিতিতে কারা নতুন দায়িত্ব পান, সেদিকেই ছিল নজর। ৭০ আসনের বিধানসভায় আম আদমি পার্টির প্রতিনিধি ৬২ জন। এই বিপুল সংখ্যক বিধায়কের মধ্যে কাদের বাছা হবে, সেই প্রক্রিয়া খুব একটা সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত নিজের কাছের, বিশ্বস্ত দুই তরুণ মন্ত্রীকে বাছলেন কেজরিওয়াল।


উল্লেখ্য,দিল্লির আবগারি দুর্নীতি নিয়ে শেষ পর্যন্ত রবিবার আবগারি মন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সোমবার বেলা দুটো নাগাদ দিল্লির আদালতে তোলা হয় তাঁকে। তবে আপের আশঙ্কা, মণীশকে জেরা করার সূত্র ধরে এরপর মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকেও নোটিস পাঠাবে সিবিআই, ইডি। কারণ যে অভিযোগে সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেটি আদতে মন্ত্রিসভার একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। দিল্লির যে মদনীতিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং সেই সূত্রে আপের তহবিলে মোটা টাকা জমা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেটি অনুমোদন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল স্বয়ং। শুধু তাই নয়, ওই নীতি তৈরির প্রক্রিয়াতেও যুক্ত ছিলেন কেজরিওয়াল। কেজরিওয়ালের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টকেও ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি, সিবিআই। প্রমাণ লোপাটের জন্য তিনিও ঘন ঘন মোবাইল সেট এবং সিম বদল করেছেন। সিবিআই, ইডির আইনজীবীরা আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যবসায়ীদের অন্যায়ভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নীতি কেন তৈরি করা হয়েছিল? এবার সেই প্রশ্নের সদুত্তর পেতে মুখ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

About Post Author