সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ মার্চ: “আজ আমাদের ন্যাড়া পোড়া কাল আমাদের দোল, পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে বলো হরি বোল”। ছোটবেলা থেকেই এই ছড়া শুনে বড় হয়েছেন মানুষজন। আর এই ছড়ার মানে বাঙালির প্রিয় উৎসব দোলযাত্রা শুধু সময়ের অপেক্ষা। সোমবার দেশজুড়ে পালিত হবে হোলিকা দহন। যদিও আমাদের রাজ্যে এই রীতির নাম ন্যাড়া পোড়া। অর্থাৎ রাত পোহালেই দোলযাত্রা বা হোলি। কিন্তু এই দহন উৎসব কেন, কী কারণেই বা এই রীতি চালু হল? এই প্রশ্ন গুলি মনে এলেও অনেকেই এর উত্তর জানেন না। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই হোলিকা দহন বা ন্যাড়া পোড়ার পিছনে আসল গল্প কি।

বাঙালিদের কাছে যা ন্যাড়া পোড়া তাই অবাঙালিদের কাছে হোলিকা দহন। এই প্রথা বা রীতির পিছনে রয়েছে এক পৌরাণিক কাহিনী। পুরাণ মতে রাক্ষস রাজ হিরণ্যকশিপু ছিলেন ভয়ানক অত্যাচারি এক রাজা। তিনি যেমন প্রজাদের নিপীড়ন করতেন, তেমনই তাঁর আমলে দেব-দেবীদের পূজো-অর্চনা বন্ধ করে দেন। তার আগে হিরণ্যকশিপু অমরত্বের লোভে ব্রক্ষ্মার তপস্যা করেন। তাঁর তপস্যায় খুশি হয়ে ব্রহ্মা তাঁকে পাঁচটি বর দিয়েছিলেন। সেগুলি হল, কোনও মানুষ বা কোনও প্রাণী তাঁকে মারতে পারবে না। ঘরের ভেতরে বা ঘরের বাইরে তাঁর মৃত্যু হবে না। তাঁর মৃত্যু দিনেও হবে না, রাতেও হবে না। অস্ত্র দ্বারাও হবে না, শস্ত্র্র দ্বারাও হবে না। হিরণ্যকশিপুর মৃত্যু জমিতেও হবে না, জলেও হবে না, শূন্যেও হবে না। এরপরই তিনি অহংকার বশত অত্যাচার শুরু করেন এবং দেবতাদের পুজো করা বন্ধ করিয়ে দেন।

কিন্তু এতকিছুর পরও হিরণ্যকশিপুর বাড়িতেই ছিল ভগবান বিষ্ণুর এক পরম ভক্ত। সে হিরণ্যকশিপুর নিজের সন্তান প্রহ্লাদ। কোনও ভাবেই যখন অত্যাচারি হিরণ্যকশিপু নিজের ছেলের বিষ্ণুভক্তি টলাতে পারলেন না তখন তিনি নিজের সন্তানকেই হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। এর জন্য তিনি নিজের বোন হোলিকার সাহায্য চান হিরণ্যকশিপু। কারণ হোলিকার কাছে ছিল এক অদ্ভুত ক্ষমতা। হোলিকা ব্রহ্মার কাছ থেকে একটি শাল পেয়েছিলেন। এই শাল তাঁকে সবসময় রক্ষা করবে বলে জানিয়েছিলেন ব্রহ্মা। এমনকি আগুনও তাঁকে পোড়াতে পারবে না। ঠিক হয়, হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়েই আগুনের মধ্যে বসে পড়বেন।

যেমন কথা তেমন কাজ, প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে হোলিকা সর্বগ্রাসী আগুনে গিয়ে বসেন। কিন্তু আদতে ঘটল অন্য ঘটনা, আগুন গ্রাস করল হোলিকাকে, উল্টে কিচ্ছু হল না প্রহ্লাদের। পুড়ে ছাই হয়ে যান হোলিকা। এই ঘটনা প্রমান করে শুভ শক্তির জয় এবং অশুভ শক্তির পরাজয়। বর্তমান সময়ে হোলি বা দোলযাত্রার আগের দিন হোলিকা দহন প্রথা ওই ঘটনা থেকেই চালু হয়েছে। মানুষ মনে করেন হোলির আগের দিন হোলিকা দহন প্রথার মাধ্যমে মনের সব পাপ, অশুচি, লোভ, হিংসে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
বেজি কি সাপের বিষে কাবু হয় না?