Home » অনুব্রত কন্যা ও হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিকে দিল্লিতে তলব ইডি-র

অনুব্রত কন্যা ও হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিকে দিল্লিতে তলব ইডি-র

সময় কলকাতা ডেস্ক,১২ মার্চঃ বুধবার অনুব্রত মণ্ডলের কন্যা সুকন্যাকে দিল্লিতে তলব ইডির। একইসঙ্গে এদিন  তলব করা হয়েছে অনুব্রতর হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিকে। এবার সুকন্যা এবং মণীশ কোঠারিকে অনুব্রতর সঙ্গে বসিয়ে একসঙ্গে জেরা করা হবে বলেই ইডি সূত্রে খবর। এদিকে,গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলকে ইডি-র তলবের পরই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সূত্রের খবর,অনুব্রতর ঘনিষ্ঠ মোট ১২ জনকে আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে ইডির সদর দফতরে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইতিমধ্যে গরু পাচার কাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডলকে দিল্লিতে নিজেদের হেফাজতে রেখে জেরা করছে ইডি। অনুব্রতকে আরও কিছু দিন নিজেদের হেফাজতে রেখে জেরা করতে চাইছে ইডি।

ইডি সূত্রে খবর, গরু পাচারের টাকা কোথায়, সেই সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই অনুব্রত কন্যা,হিসাব রক্ষক সহ বাকিদের দিল্লি তলব করা হয়েছে। গরু পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে যে নথি এসেছে, তার ভিত্তিতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার বলেই জানা গিয়েছে। অন্যদিকে,কোথা থেকে অনুব্রতের এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি এল, সে বিষয়ে অনুব্রতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।  গরু পাচার মামলায় সিবিআই-এর চার্জশিটে সুকন্যা মণ্ডলের বার্ষিক আয় চোখে পড়ার মতো। এমনকী করোনাকালে যখন মানুষ রোজগার হারিয়েছিল সেই সময়ও তার বার্ষিক আয় ছিল ১ কোটি টাকা। সিবিআইয়ের তরফ থেকে ৩৫ পাতার যে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে তাতেই সুকন্যা মন্ডলের সম্পত্তি বৃদ্ধির গ্রাফ পুরোপুরি স্পষ্ট।

২০১২-১৩ সাল থেকে অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলের সম্পত্তির পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। পেশায় একজন শিক্ষিকা হয়েও সেই সময় সুকন্যার বার্ষিক আয় ছিল ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। পরের বছর তা বেড়ে হয় ৮ লক্ষ টাকা এবং ঠিক তার পরের বছর বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লক্ষ টাকা। ২০১৫-১৬ আর্থিক বর্ষে সুকন্যা মন্ডলের বার্ষিক আয় লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ লক্ষ ৩২ হাজার টাকায়। পরবর্তী আর্থিক বছরে বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়ায় আরও ২ লক্ষ টাকা। ২০১৮-১৯ আর্থিক বর্ষে সুকন্যা মন্ডলের বার্ষিক আয় বেড়ে হয় ১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকায়। ২০১৯-২০ আর্থিক বর্ষে বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকায়। ২০২০-২১ আর্থিক বর্ষে বার্ষিক আয় কিছুটা হলেও কমে এবং তা দাঁড়ায় ৯২ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা। যা কার্যত চিন্তা বাড়িয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর।

About Post Author