সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ এপ্রিল: ক্রমশ ঝাঁজ বাড়ছে ডিএ আন্দোলনের। এবার যন্তরমন্তরে ধর্নার অনুমতি দিল দিল্লি পুলিশ। আগামী ১০ এবং ১১ এপ্রিল পরপর দু’দিন ধর্ণায় বসতে পারবেন এ রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। তবে ধরনায় ৫০০ জনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর আগেই ডিএ আন্দোলনকারীদের যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। শুধু তাই নয় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গেও সাক্ষাতের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। এরই পাশাপাশি যন্তরমন্তরে ধর্নার অনুমতি চেয়ে দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাতেই মিলেছে সবুজ সংকেত। সুতরাং কলকাতার পর রাজধানীর রাজপথে ডিএ আন্দোলনের ঝাঁজ যে আরও বাড়তে চলেছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

অন্যদিকে, দীর্ঘ জট কাটিয়ে আগামী ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলার শুনানি হতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীনেশ মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে মামলাটি উঠবে বলেই সূত্রের খবর। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কী রায়দান দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এদিকে,বৃহস্পতিবারই ডিএ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারকে আলোচনায় বসার নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। ১৭ এপ্রিলের মধ্যে কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ২ মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলনে নেমেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মতলার শহিদ মিনারে চলেছে তাঁদের আন্দোলন। মাস খানেক আগে তাঁরা অনশনও শুরু করেছিলেন। এর আগে গত ১৫ মার্চ ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে ২১ মার্চ সময় দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। সেসময় চূড়ান্ত শুনানির আশায় দিল্লি গিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু ওইদিনও তাঁদের আশাহত হতে হয়। ওইদিন সর্বোচ্চ আদালত জানায় আগামী ১১ এপ্রিল এই মামলার শুনানি হবে। ফলে মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে আন্দোলনকারীদের। ধর্মতলায় আন্দোলনরত রাজ্য সরকারি কর্মচারিরাও এদিনের শুনানির দিকে তাঁকিয়ে ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টে এদিন শুনানি না হওয়ায় কার্যত হতাশ তাঁরা। যদিও গত ১০ মার্চের ধর্মঘটের আগে সরকারের তরফ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এমনকী ওইদিন কাজে না আসলে একদিনের বেতন কাটার কথাও জানানো হয়েছিল। সরকারের সেই নির্দেশকে কার্যত উপেক্ষা করেই অনেকে সরকারি কর্মচারীকে দেখা গিয়েছিল ধর্মঘটে অংশ নিতে। যা নিয়ে পরে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে আন্দোলনকারীদের।
আরও পড়ুন কীভাবে মিটবে কুড়মি সমাজের সমস্যা?
প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ৩১ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল। সেই মামলারই শুনানি ছিল। রাজ্যের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মচারিদের ডিএ দিতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দাবি, ডিএ তাঁদের অধিকার। তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ায় সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ। ধর্মতলায় শহিদ মিনারের নিচে তাঁরা অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন। বাম-কংগ্রেস, বিজেপি-সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছে। এরমধ্যে প্রতীকী ধর্মঘটও করেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সমাধান সূত্র বের হতে দেরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?