সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল: ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী করোনা ভাইরাস। প্রায় কয়েক মাস পর দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার স্পর্শ করল। করোনার চোখ রাঙ্গানিতে কাবু গোটা দেশ। নিত্যদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার আক্রান্তের সংখ্যা। আক্রান্তের নিরিখে বাংলাও পিছিয়ে নেই। রাজ্যে এই মুহূর্তে করোনা নিয়ে চিকিৎসাধীন ৬২৩ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। যা তৃতীয় ঢেউয়ের তুলনায় আরো দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন দেশবাসী। পরিসংখ্যান বলছে, একটানা তিন দিন ধরে দেশের সংক্রমণের হার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ১১ হাজারেরও বেশি। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিল্লি, কেরালা,মহারাষ্ট্র,তামিলনাড়ু ও গুজরাটে সংক্রমণ সবেচেয়ে বেশি। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ফের উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯৮ জন। অন্যদিকে,গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১২৭ জনের শরীরে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা সংক্রমণের কারণে ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বর্তমানে দেশের সক্রিয় করোনা রোগী ৫৭ হাজার ৫৪০ জন। এর ফলে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৫ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক পজিটিভিটি রেট রয়েছে ৪.৪৪ শতাংশ। কেরল ও মহারাষ্ট্রে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ৪৩১১। করোনায় সুস্থতার হার ৯৮.৭২ শতাংশ।
আরও পড়ুন তীব্র দাবদাহ, স্কুল কলেজে ছ’দিনের ছুটি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

করোনা নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। সেখানেই তিনি মকড্রিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মতো সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলিতে মকড্রিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের ৩১ টি সরকারি হাসপাতালে মকড্রিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।বর্তমানে মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে শীর্ষে রয়েছে কেরালা ও মহারাষ্ট্র,কর্ণাটক, গুজরাত, হিমাচল প্রদেশ। কেরালায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা সংক্রমণের কারণে কেরালায় ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লিতে অ্যাক্টিভ কেস ১৯০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর হার ৩.২৫ শতাংশ। টিকাকরণে জোর দিয়ে সংক্রমণে লাগাম টানা সম্ভব হলেও এখনও সম্পূর্ণ বিদায় নেয়নি এই মারণ ভাইরাস। কার্যত সেকারণেই জোরকদমে চলছে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনামূল্যে বুস্টার ডোজ অভিযান।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর