সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল: এবার সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা মামলার পর্যবেক্ষণে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের কড়া নির্দেশ, রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর নেতৃত্বে শীঘ্রই একটি কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি দশ দিনের মধ্যে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পাঁচ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে বৈঠকে বসবে। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি একাধিকবার পিছিয়ে গিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে আগামী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে চলতি মাসেই। এখন দেখার বিষয় এটাই যে,২৪ এপ্রিল ডিএ মামলার শুনানির আগে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির সঙ্গে কর্মচারী প্রতিনিধিদের বৈঠক কবে হয়।
আরও পড়ুন দণ্ডিকাণ্ডের জের, ১২ ঘণ্টার বাংলা বনধ আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযানের

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলনে নেমেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মতলার শহিদ মিনারে চলেছে তাঁদের আন্দোলন। মাস খানেক আগে তাঁরা অনশনও শুরু করেছিলেন। এর আগে গত ১৫ মার্চ ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে ২১ মার্চ অর্থাৎ সময় দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। সেসময় চূড়ান্ত শুনানির আশায় দিল্লি গিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু ওইদিনও তাঁদের আশাহত হতে হয়। ওইদিন সর্বোচ্চ আদালত জানায় আগামী ১১ এপ্রিল এই মামলার শুনানি হবে। এরপর ফের পিছিয়ে যায় এই মামলার শুনানি।

আদালতের তরফে জানানো হয় ২৪ এপ্রিল ডিএ মামলার শুনানি হবে। ফলে মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে আন্দোলনকারীদের। ধর্মতলায় আন্দোলনরত রাজ্য সরকারি কর্মচারিরাও এদিনের শুনানির দিকে তাঁকিয়ে ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টে এদিন শুনানি না হওয়ায় কার্যত হতাশ তাঁরা। যদিও গত ১০ মার্চের ধর্মঘটের আগে সরকারের তরফ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এমনকী ওইদিন কাজে না আসলে একদিনের বেতন কাটার কথাও জানানো হয়েছিল। সরকারের সেই নির্দেশকে কার্যত উপেক্ষা করেই অনেকে সরকারি কর্মচারীকে দেখা গিয়েছিল ধর্মঘটে অংশ নিতে। যা নিয়ে পরে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে আন্দোলনকারীদের। এখন দেখার আগামী ৬ তারিখের ধর্মঘটে সরকারের তরফে কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয় কিনা।

আরও পড়ুন তাপপ্রবাহের জেরে নাজেহাল অবস্থা বঙ্গবাসীর, ৪১ ডিগ্রি ছাড়াল তাপমাত্রা
প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ৩১ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল। সেই মামলারই শুনানি ছিল। রাজ্যের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মচারিদের ডিএ দিতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দাবি, ডিএ তাঁদের অধিকার। তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ায় সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ। ধর্মতলায় শহিদ মিনারের নিচে তাঁরা অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন। বাম-কংগ্রেস, বিজেপি-সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছে। এরমধ্যে প্রতীকী ধর্মঘটও করেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সমাধান সূত্র বের হতে দেরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।


More Stories
আসন বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধনী তথা মহিলা সংরক্ষণ বিল আনতে ব্যর্থ কেন্দ্র
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?