সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ এপ্রিল: মঙ্গলবারের সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ে। বিশাল মাঠ জুড়ে হাজার হাজার সরকারি নথি জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে সিবিআই। আগুনের মধ্যে থেকে পোড়া নথি উদ্ধার করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। কীসের নথি পোড়ানো হচ্ছিল, কার জমিতেই বা এমন কাণ্ড ঘটানো হচ্ছিল, সেইসব তদন্ত শুরু করে সিবিআই। সূত্রের খবর, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে জল্পনা ডানা মেলেছে, তা খতিয়ে দেখতে রাকেশকে তলব করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এপ্রসঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ কটাক্ষের সুরে বলেন,‘সিবিআইকে বলেছিলাম, আপনারা চোখ কান খোলা রাখবেন। রাস্তায় নথি টাকা পড়ে থাকতে দেখা যাবে। ওনারা ভেবেছিলেন, সিবিআই বোধহয় ক্ষান্ত হয়ে গেছে। এবার সিবিআই এর হাত যে কোথায় কোথায় পৌচাবে, ধারনা নেই।’ শোনা যায়, যে জমিতে এইসব নথি পোড়ানো হচ্ছিল, সেই জমি নাকি রাকেশ রায়চৌধুরী নামে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার নামে রয়েছে! যদিও রাকেশ জানিয়েছে,এই জমির মালিক বিহারের বাসিন্দা। তাঁরা এয়ারফোর্সে চাকরি করেন। যে নথিগুলি পোড়ানো হয়েছে, সেগুলিও বিহার, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানার ২০০৮-২০১০ সালের নথি বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু নথি পোড়ানো নিয়ে রহস্যের দানা বেঁধেছে।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ধরপাকড়ের মধ্যেই মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের মাটিতে চলছিল গোপনে নথি ধ্বংস! খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ভাঙড়ের আন্দুল গড়িয়াতে নথি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। এপরই ভাঙড়ে ছাই ঘেঁটে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে সিবিআই এর হাতে। উদ্ধার হওয়া নথি কোল মাইনিং সংক্রান্ত নথি! পোড়ানো হয়েছে বিহারের একাধিক এলাকার মাইনিং ব্যবসা সংক্রান্ত নথি। মাইনিং সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখছেন কয়লাকাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার উমেশ কুমার। ঘটনাস্থলে ছিল এসএসসি দুর্নীতির তদন্তকারী আধিকারিকরাও। যদিও পোড়া নথি থেকে এখনও মেলেনি এসএসসি-দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য। কারা পোড়ালো নথি? জমির মালিককে আটক করে শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ।
আরও পড়ুন ভাঙড়ে জ্বলন্ত নথির গাদা থেকে উদ্ধার কোল মাইনিং সংক্রান্ত নথি!
অভিযোগ, পাঁচিল ঘেরা এলাকার মধ্যে সরকারি নথি পোড়ানো হচ্ছে বলে খবর পৌঁছায় সিবিআই দফতরে। বিশাল এলাকা জুড়ে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এই নথি পোড়ালো তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হচ্ছে কিনা সেটা দেখতেই সিবিআই আধিকারিকেরা আগুন নিভিয়ে ছাই এর গাদা থেকে আধ পোড়া করতে পারে। সেগুলি খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে সেগুলি সবই কোল মাইনিং সংক্রান্ত কাগজ। তৈরি হয়েছে রহস্য। সিবিআই আধিকারিকরা স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে গৌতম মণ্ডলের নাম জানতে পারেন। জানা যায়, তিনি স্থানীয় তৃণমূল নেতা। ঘটনাস্থল থেকে এখনো পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে পোড়া ফাইল, পোড়া চেকবুক, বেশ কিছু রশিদ সরকারি কাগজপত্র।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক সওকত মোল্লা বলেন,‘এজেন্সির সবটা তদন্ত করে দেখা উচিত। সবসময়ই আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে। তদন্তে আমাদের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা রয়েছে। বাংলায় যদি কোনও কাগজও পোড়ে, তা নথি দেখানো হয়। এটা তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা। এখানে যদি রাকেশ ও গৌতমের কোনও হাত থাকে, তাহলে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সিবিআই। ওটা সওকত মোল্লার এলাকা। কী নথি পুড়েছে তা তদন্ত করলেই বেরোবে। যারা নথি পুড়াচ্ছিল, তাদের জবানবন্দি খুব প্রয়োজন।’


More Stories
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!