সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ এপ্রিল: রাজু ঝা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল দুর্গাপুর থেকে গ্রেফতার হয় অভিজিৎ মন্ডল। জানা গিয়েছে, কাঁকসার তপবনসিটিতে আবাসন তার। শুক্রবার সিটের নির্দেশে তপবনসিটির বহুতল আবাসনের ৪৮ নম্বর টাওয়ারের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলো কাঁকসা থানা ও মলানদীঘির ফাঁড়ির পুলিশ। যদিও, পুলিশ সূত্রে খবর, টানা ২২ দিনের মধ্যে মাত্র দু দিনের ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। রাজু ঝা হত্যাকান্ডে এবার সিসিটিভি ফুটেজের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সিট। এদিকে,বুধবার রাতে অভিজিৎ মন্ডলকে নিয়ে নারায়ণ খাড়কার সিটি সেন্টারের বেঙ্গল অম্বুজার অফিস সিল করে দেন সিটের তদন্তকারী আধিকারিকরা।

উল্লেখ্য,কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা খুনের ১৯ দিনের মাথায় বাঁকুড়ার ছেলে বর্তমানে দুর্গাপুরের কর্মরত অভিজিৎ মন্ডলকে আটক করে পূর্ব বর্ধমান জেলার শক্তিগড় থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে কাঁকসা থানার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার। ধৃতকে জেরা করলেই বাকি অভিযুক্তদের হদিশ মিলবে বলে আশাবাদী তদন্তকারীরা। বুধবারই আদালতে তোলা হয় ধৃতকে। পুলিশের অনুমান, ধৃতকে জেরা করলেই রাজু ঝা হত্যা রহস্যের কিনারা করা সম্ভব হবে। জানা গিয়েছে,অভিজিতের আসল বাড়ি বাঁকুড়ায়। রানিগঞ্জের মাফিয়া নারায়ণ গেরফার গাড়ি চালাত এই অভিজিৎ। দীর্ঘদিন ধরে রাজুর সঙ্গে বালি ও কয়লা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল নারায়ণের।
আরও পড়ুন ধৃতকে জেরা করেই মিলবে রাজু ঝা খুনের রহস্য

অভিজিৎ মণ্ডল গ্রেফতার হতেই পুলিশের জালে নজরে ছিল নারায়ণ ওরফে নরেন্দ্র খেরকা। রাজেশ ওরফে রাজু ঝা হত্যা কাণ্ডে একসময়ের সহযোগী নারায়ণের যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ এসেছে এই মামলায় গঠিত স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিটের হাতে। সেই মতোই বুধবার রাতে কয়লা মাফিয়া নারায়ণ খেরকার দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারের অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। তদন্তকারী সিট-এর আধিকারিকদের প্রায় ১০ গাড়ি পুলিস নারায়ণ খেরকার অফিস ঘেড়াও করে ফেলে। যদিও অফিসে কেউ ছিল না বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অভিজিৎ কয়লা মাফিয়া নারায়ণ খেরকার গাড়ির চালক। তাকেই মঙ্গলবার সিটিসেন্টারের নারায়ণ খেরকার এই অফিস থেকে গ্রেফতার করে সিট। অভিজিৎ ধরা পড়তেই গা ঢাকা দিয়েছে নারায়ণ। তাতে পুলিশের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে।

আরও পড়ুন স্বস্তি! সপ্তাহান্তে একাধিক জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস
প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে দুষ্কৃতীরা গুলিতে ঝাঁজরা করে দেয় রাজু ঝাকে। নীল গাড়িতে চেপে এসে কাজ সেরে আবার ওই গাড়িতেই চম্পট দেয় শার্প শুটাররা। ঘটনাস্থলে একটি নীল রঙের বাইকেরও অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাতে শার্প শুটারদের সঙ্গে থাকা একজনকে চেপে পালাতে দেখা গিয়েছে। পরে ওই নীল চারচাকা গাড়িটি শক্তিগড় থানার অদূরে উদ্ধার করা হয়। এই নীল গাড়িটিকে ঘটনার ভোরে পশ্চিম বর্ধমানের ডুবুরডিহি চেক পোস্ট দিয়ে ঝাড়খণ্ড-বিহারের দিকে যেতে ও ওইদিন দুপুরে আবার ফিরে আসতে দেখা যায়। কিন্তু গাড়ির হদিশ পাওয়া গেলেও রহস্যের শিকড়ে পৌঁছতে পারছিলেন না তদন্তকারীরা। কারণ, ওই নীল গাড়িটি দিল্লি থেকে চুরি করা হয়েছিল বলেই জানতে পারে তদন্তকারীরা।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী