সময় কলকাতা ডেস্ক,২৬ এপ্রিল: নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে প্রোমোটার অয়ন শীল গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতিমধ্যেই নিয়োগ দুর্নীতেকাণ্ডে ধৃত অয়ন শীলের বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। এমনকী অভিযুক্ত এই প্রোমোটার অয়ন শীলের নামে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক লকারেরও সন্ধান মিলেছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। এবার নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন অয়ন শীলের ছেলের বান্ধবী ইমন গঙ্গোপাধ্যায়। ইডি-র তলবে সাড়া দিয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন ইমন। সঙ্গে ছিল তাঁর বাবা বিভাস গঙ্গোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন কালিয়াচক হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত
জানা গিয়েছে,২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর হুগলিতে এক কোটি টাকা দিয়ে অভিষেক-ইমনের নামে একটি জমি কিনেছিলেন গুণধর অয়ন। এমনকী অয়ন শীলের ছেলে অভিষেকের সঙ্গে দুটি সংস্থায় যৌথ অংশীদারি রয়েছে ইমন গঙ্গোপাধ্যায়ের। নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ইমন ও তাঁর বাবা বিভাসের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না? অয়নের বিপুল সম্পত্তির উৎস সম্পর্কে তারা কিছু জানে কিনা,সেসব জানতেই ইমন গঙ্গোপাধ্যায়কে তলব করেছে ইডি।

এদিকে,ধৃত অয়ন শীলকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য সবরকম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সিবিআই। এপ্রসঙ্গে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রয়োজনে সিবিআই আলাদা ভাবে এফআইআর করতে পারবে। গত শনিবারই হাইকোর্টের নির্দেশ মত পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে ২০০ কোটির হদিশ পেল ইডি। সূত্রের খবর,নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত অয়ন শীল শুধুমাত্র পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা তুলেছিলেন। ইতিমধ্যেই এই কথা অয়ন জেরায় স্বীকারও করেছেন বলেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। কিছুদিন আগেই ইডি-র সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মী নিয়োগ করেই বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনতে শুরু করেন অয়ন।

পাশাপাশি নির্মাণ সংস্থা খুলে আবাসন প্রকল্পেও বিনিয়োগ করেন গুণধর অয়ন শীল। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত এই প্রোমোটার অয়ন শীলের নামে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক লকারেরও সন্ধান মিলেছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত অয়ন শীলের ৪২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কার্যত সেকারণেই আয়কর দফতর থেকে অয়ন সহ পরিবারের সব সদস্যদের গত ৫ বছরের আয়কর রিটার্নের নথি পেশ করতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি রয়েছে অয়ন শীল,তাঁর স্ত্রী কাকলি শীল ও কোম্পানির নামে।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল এখন ইডির জালে। অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করে ইডি। সেইসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা,অ্যাডমিট কার্ড ও একাধিক নথিও উদ্ধার হয়েছে। এমনকী শান্তনু ও অয়নের যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলেও ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ৪০০-রও বেশি ওএমআর শিট ও পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক,টাইপিস্ট,ক্লার্ক,গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য একএকরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি।


More Stories
বাড়ি রং করাও ধ*র্ষণ! ঋতব্রতকে নিয়ে ধর্ষ*কের নতুন সংজ্ঞা মদনের
পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খু*ন করে আত্ম*ঘাতী স্বামী
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি