সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ মেঃ শনিবার সকাল আটটা থেকে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। পঞ্চাশ মিনিট যখন গণনার বয়স তখন দেখা যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। কখনও এগিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। কখনও টপকে যাচ্ছে গেরিয়া শিবির। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ যখন পোস্টাল ব্যালট গণনার ট্রেন্ড সামনে আসে তখন দেখা যায় ২২৪ আসনের কর্নাটকে ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেছে কংগ্রেস। কিন্তু ১৫ মিনিট যেতে না যেতেই আবার তা বদলে যায়। কিছুটা এগোয় বিজেপি। ২০১৮ সালের ভোটের পর কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েছিল জেডিএস। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন এইচডি কুমারস্বামী। কিন্তু তারপর অপারেশন লোটাসে সেই সরকার পড়ে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি। যদিও গেরুয়া শিবিরও খুব স্বস্তির মধ্যে দিয়ে যায়নি। প্রথমে ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসালেও পড়ে তাঁকে সরিয়ে দেয় দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ। মুখ্যমন্ত্রী করা হয় বাসবরাজ বোম্মাইকে।

এদিকে,শনিবার সকালে ভোট গণনা শুরু হতেই হুব্বাল্লির হনুমান মন্দির পরিদর্শনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোমাই। কর্নাটকে এখনও সব কেন্দ্রে প্রথম দফার গণনা শেষ হয়নি। তবে সময় যত গড়াচ্ছে ততই কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে ফারাক বাড়ছে। কংগ্রেসের ঝুলিতে এগিয়ে থাকা আসনের সংখ্যা বাড়ছে। তবে বেলা ১’টা-দেড়টার আগে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে না। তবে ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে কর্নাটকে কাজ করেনি মোদী ম্যাজিক। তবে, বেশিরভাগ সংস্থাই বুথফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত দিয়েছিল, কর্নাটকে ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি হতে পারে। সেসব মাথায় রেখেই ফল ঘোষণা শুরুর কিছুটা আগেই বেঙ্গালুরুর অদূরে সাত তারা রিসর্ট বুক করে ফেলে কংগ্রেস। জানা গিয়েছে, জয়ী বিধায়কদের সেখানে নিয়ে গিয়ে রাখবেন ডিকে শিবকুমার, সিদ্দারামাইয়ারা। ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি হলে যাতে কংগ্রেসি বিধায়কদের বিজেপি ভাঙিয়ে না নিতে পারে, সেকারণেই এই ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’, বাংলায় জারি সতর্কতা

গত সাত-আট বছরে দেশের রাজনীতিতে রিসর্ট রাজনীতি নতুন নয়। এর আগে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানে এই ছবি দেখা গিয়েছিল। কর্নাটকের ভাঙা-গড়ার সময়েও রিসর্ট রাজনীতি চর্চায় এসেছিল। এবার ফল ঘোষণার আগেই সেই বন্দোবস্ত করে ফেলল কংগ্রেস। শনিবার কাকভোরে সিদ্দারামাইয়ার বাড়ি থেকে বৈঠক করে বের হন কর্নাটকের কংগ্রেস সভাপতি শিবকুমার। সংবাদসংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, ‘আমরা সমস্ত বন্দোবস্ত রাখছি। অবস্থা অনুযায়ী পদক্ষেপ করব।’ শনিবার সেই কর্নাটকে বিধানসভা ভোটের গণনা চলছে। প্রথম দেড় ঘণ্টার ট্রেন্ড দেখে বোঝা যাচ্ছে, কংগ্রেস অনেকটা ভাল ফল করার দিকে এগোচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে রাহুলের সেই হাঁটার ছবি দিয়ে কংগ্রেসের অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডল লেখা হল —‘আমি অপরাজেয়, আমি আত্মবিশ্বাসী। এবং হ্যাঁ, আজকে আমি অপ্রতিরোধ্য।’ পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, কর্নাটকে কংগ্রেসের এই ফলে রাহুলকে এগিয়ে দেওয়ার পিছনে একটি কারণ রয়েছে। তা হল, আদালতের শাস্তি এবং সাংসদ পদ খারিজ হওয়া। এই কর্নাটকের একটি ভাষণ নিয়েই এত ঘটনা ঘটে গিয়েছে। সেই কর্নাটক ফের ঝুঁকছে কংগ্রেসের দিকে।


More Stories
বিজেপি বিপক্ষ দল ভাঙাতে কত কোটি টাকা দিচ্ছে বলে অভিযোগ?
আক্রান্ত হলেন ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে
ভারতে তেলের দাম কি কমছে?