সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ মে: এগরাতে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে প্রাণ হারালেন বহু মানুষ। এরকম যে হবেই তার নিশ্চিত ইঙ্গিত ছিল। বরাবরই ইঙ্গিত ছিল। বিগত বছর খানেক ধরেই বা বলা যাক গত কয়েক মাস ধরেই পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় বাজি কারখানায় ভয়াবহ কিছু বিস্ফোরণ ঘটেছে। হতাহত হয়েছেন একাধিক মানুষ। পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট থানার পয়াগে সাম্প্রতিক অতীতে পুজোর আগে বাজি কারখানায় আগুন লাগে। আহত হন একাধিক মানুষ। গত বছর একই ভাবে ভগবানপুর-২ ব্লকের ভূপতিনগর থানার অর্জুননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাড়য়াবিলা গ্রামেও বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় এক তৃণমূল নেতা-সহ তিন জনের। এরপরে আসা যাক এগরায়।
আরও পড়ুন কুন্তল ঘোষের চিঠি মামলায় অভিষেক-কুন্তলকে মুখোমুখি জেরায় মিলল না স্থগিতাদেশ

মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা ১ নম্বর ব্লকের পুরন্দা গ্রামে একটি বাজি কারখানায় জোরালো বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণ থেকেই কারখানাটিতে আগুন লেগে যায়। যার ফলে আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এক যুবকের। মৃত যুবকের নাম দুর্গাপদ জানা। এছাড়াও গুরুতর জখম হয়েছিলেন আরও ২জন। এতেও হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের। ফলশ্রুতি এবার এগরার ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এবার একাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এগরার বাজি কারখানার বিস্ফোরণে। মঙ্গলবার বেলা ১২টা নাগাদ বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এগরার খাদিকুল গ্রাম। গ্রামবাসীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখেন, স্থানীয় একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে মানুষের মৃতদেহ ও দেহাংশ। বিস্ফোরণের অভিঘাতে উড়ে গিয়েছে বাজি কারখানার চালা। ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকা দেওয়াল। আসে দমকল ও পুলিশ। ওদিকে আহতদের উদ্ধার করে অ্যম্বুলান্সে করে এগরা মহকুমা হাসপাতালে পাঠান তাঁরা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এই এলাকায় বাড়ির মধ্যে একাধিক অবৈধ বাজি কারখানা রয়েছে। এই কারখানাগুলির ওপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই পুলিশ – প্রশাসনের। যার ফলে আগেও এলাকায় এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পর পর বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয় হল পয়াগ, পুরন্দা থেকে শিক্ষালাভ করেনি প্রশাসন। কি বলছে পুলিশ? পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অমরনাথকে সংবাদমাধ্যমে জানান, ‘‘ওড়িশা সীমানা থেকে কিছুটা দূরে একটা বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে। সেখানে বাজি তৈরি হচ্ছিল। বিস্ফোরণের জেরে এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন চার জন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।’’ এগরার বিধায়ক তরুণ মাইতি বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি. বাজি কারখানা ছিল বলেই খবর পেয়েছি। পুলিশ আগেই তল্লাশি করে বন্ধ করেছিল। তারপরও লুকিয়ে চলছিল। কতজন মারা গিয়েছেন এখন বলতে পারব না। খুবই খারাপ লাগছে। প্রশাসনকে বলব কড়া হাতে দমন করতে। আমি বিধায়ক হওয়ার পর এই প্রথম এই ঘটনা। আমি আগেই নির্দেশ দিয়েছিলাম। পুলিশও টহলদারি করেছে। কিন্তু গোপনে হয়ত চলছিল।”
আরও পড়ুন ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি যাচ্ছে, রায় পাল্টালেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

গোপন কথাটি গোপনে থাকছে না। বিস্ফোরণের পরে বিস্ফোরণ ঘটছে। ঘটে চলেছে পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে, গোটা বঙ্গ জুড়ে। উত্তর ২৪ পরগনা এর ব্যতিক্রম নয়। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে পুজোর আগে আমডাঙ্গার ভালুকা ও বারাসাতের নারায়ণপুরে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ হয় ও আগুন লাগে। আমডাঙায় অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন। নারায়ণপুরে মৃত্যু হয় একজনের। আর হালেই ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ। তিনজনের প্রাণ যায়। লিপিকা হাতি, শান্তনু হাতি এবং আলো দাস। লিপিকা (৫২) ওই বাজি কারখানার মালিকের স্ত্রী। ২২ বছরের শান্তনু ওই বাজি কারখানার মালিকের ছেলে। এ ছাড়া, ১৭ বছরের যে নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে, সে সবে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। অর্থাৎ বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ছাড়ছে না কাউকে। সাধারণ মানুষ, বাজি কারখানার কর্মী, বাজি কারখানার মালিক প্রাণ হারাচ্ছেন বিস্ফোরক বাজি বানানোর কর্মকাণ্ডে। তবুও এসব নাকি গোপনে চলছে? এত মানুষ কাজ করছেন, এত বিস্ফোরক আসছে, এত প্রাণহানি ঘটছে তাও কি গোপনে? কবে হুঁশ ফিরবে? পথ কি?


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?