স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৭ মে: আইপিএলে অব্যহত গিল ঝড়। আহমেদাবাদে দ্বিতীয় রাউন্ডের কোয়ালিফায়ারে মুম্বইকে ৬২ রানে হারাল গুজরাট। এদিন টস জিতে গুজরাটকে প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩৩ রান তোলে গুজরাট। গুজরাটের হয়ে ৬০ বলে ১২৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৮.২ ওভারে ১৭১ রানে শেষ মুম্বইয়ের ইনিংস। আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামে গুজরাট টানটান্স। যদিও বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এই ম্যাচ দেখার জন্য স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিল প্রায় ৭৫ হাজার সমর্থক।
আরও পড়ুন বেঙ্গালুরু এফসি ছাড়লেন তারকা ফুটবলার, এবার লাল-হলুদের পথে?

এদিন টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন রোহিত শর্মা। এই সিদ্ধান্ত যে বুমেরাং হয়ে ফিরবে বুঝতে পারেননি রোহিত। সপ্তম ওভারে ঋদ্ধিমান সাহা ফিরলে দলের সাই সুদর্শনকে সঙ্গী করে দলের হাল ধরেন শুভমন গিল। দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৮ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার। মাত্র ৪৯ বলে নিজের শতরান পূরণ করেন তিনি। বিরাটের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে আইপিএলের এক মরশুমে আটশত রানের নজির গড়লেন গিল। এদিন মুম্বইয়ের কোনো বোলারকে রেয়াত করেননি তিনি। ২০১৬ সালে এরকম দুরন্ত ফর্মে দেখা গিয়েছিল বিরাট কোহলিকে। সেই মরশুমে বিরাট করেছিলেন মোট ৯৭৩ রান। প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের ব্যাট থেকে এসেছিল ৪ টি শতরান ও ৭ টি অর্ধশত রান।

ব্যাট হাতে ২২ গজে বিরাটের সেই দাপট এখনও চোখে লেগে রয়েছে ক্রিকেট অনুরাগীদের। যা এবার দেখা যাচ্ছে গুজরাট ওপেনার গিলের ব্যাট থেকেও। ইতিমধ্যে ৩ টি শতরান ও ৪ টি হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেছেন গিল। ৮৫১ রান করে চলতি মরশুমে কমলা টুপির লড়াইয়ে বাকিদের থেকে বেশ কয়েক মাইল এগিয়েও গিয়েছেন। এখন ফাইনালে ১২২ রান করতে পারলেই তিনি টপকে যাবেন কোহলিকে। হাতে রয়েছে মাত্র একটি ম্যাচ। কঠিন হলেও গিল যা ফর্মে রয়েছেন তাতে কাজটি একেবারে অসম্ভব নয়। ইতিমধ্যে গিলের ব্যাটিং দাপটে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে কোহলির দলকে। আর শুক্রবার সেই গিলের ব্যাটেই চুরমার হল রোহিত শর্মার মুম্বইয়ের ষষ্ঠ বারের জন্য ইন্ডিয়ান সুপার লিগ জয়ের স্বপ্ন।
আরও পড়ুন ‘দ্য কেরালা স্টোরি’র বিতর্কে প্রসঙ্গে সরব নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি

গিলের ইনিংস থামে ৬০ বলে ১২৯ রানে। এই রানের সৌজন্যে মুম্বইকে ২৩৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেয় গুজরাট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পরে যায় মুম্বই। মুম্বইয়ের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও নেহাল ওয়াধেরাকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন মহম্মদ শামি। এরপর ঝড়ের গতিতে রান তুলতে থাকেন তিলক বর্মা। যদিও তিলকে ইনিংস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৪ বলে ৪৩ রান করে রশিদ খানের বলে আউট হন তিনি। এরপর দলের হাল ধরেন ক্যামেরন গ্রিন ও সূর্য কুমার যাদব। দ্বাদশ ওভারে গ্রিনকে ফেরান জুসুয়া লিটল। এটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাড়ায়। কারণ এরপর সূর্য একা লড়লেও যোগ্য সঙ্গত পাননি।

পঞ্চদশ ওভারে মোহিত শর্মার বলে স্কুপ শট মারতে গিয়ে উইকেট খুইয়ে বসেন সূর্য। আউট হয়ে অনেকক্ষণ পিচে দাড়িয়ে ছিলেন এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা টি ২০ ক্রিকেটার। হয়তো সূর্য তখনই ম্যাচের ভাগ্য পড়ে ফেলেছিলেন। এর পর গুজরাটের বোলিংয়ের দাপটে খড়কুটোর মত উড়ে গেল মুম্বই।
ম্যাচের প্রথম ভাগ যদি হয় গিলের, তাহলে শেষ ভাগ হয়ে রইল মোহিত শর্মার নামে। মাত্র ২.২ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১০ রান খরচ করে নিলেন ৫ টি উইকেট। এই অভিজ্ঞ বোলারের দাপটে মাত্র ১৮.২ ওভারেই শেষ হল মুম্বইয়ের ইনিংস। এই জয়ের ফলে আগামী রবিবার চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি হবেন হার্দিকরা।


More Stories
শক্তিশালী দল গড়ছে মোহনবাগান, রেকর্ড অর্থে এলেন ছাঙতে
আর্জেন্টিনা এখন টিএমসির মতো : দিলীপ ঘোষ
বিশ্বকাপের নতুন মারাদোনা কে?