সময় কলকাতা ডেস্ক,৩০ মেঃ বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। মণিপুরের পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার তিনদিনের সফরে মণিপুরে গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারই মধ্যে এবার মণিপুরের অশান্তি রুখতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে দারস্থ হল কংগ্রেস। মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। মণিপুরের অশান্তি রুখতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি, মণিপুর খুব ছোট একটি রাজ্য। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেই যে কোনও সময় মণিপুরের অশান্তি বন্ধ করতে পারে। হিংসায় জর্জরিত মণিপুরে ইতিমধ্যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কার্যত সেকারণেই এদিন সকালে মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে কে.সি বেণুগোপাল ও মুকুল ওয়াসনিক সহ মণিপুর কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে একটি বৈঠকও করেন। মণিপুরের শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রপতিকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণেরও আর্জি জানান তাঁরা। এমনকী মণিপুরের শান্তি ফিরিয়ে আনতে দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে ১২ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন কংগ্রেস প্রতিনিধিরা।

প্রসঙ্গত, শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ফের নতুন করে মণিপুরে হিংসা ছড়িয়েছে। প্রাণ গিয়েছে একজনের। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি ভাবে পৌঁছল ৭৩-এ। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মণিপুরে অশান্তি চলছে। এর মূলে রয়েছে মেটেই জনজাতির সঙ্গে আদিবাসীদের সংঘাত। মণিপুরের মেইতেই জনজাতিকে তফসিলি উপজাতির তকমা দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। মণিপুরের বিজেপি সরকার সেই দাবি মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাতেই ক্ষুব্ধ কুকি-সহ অধিকাংশ আদিবাসী সংগঠন। তাদের বক্তব্য, মেইতেইরাও যদি তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি পেয়ে যায়, তাহলে আদিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। তাছাড়া, মণিপুরের বিজেপি সরকার স্থানীয় বনাঞ্চলগুলিতে সমীক্ষা চালাচ্ছে। আদিবাসীদের আশঙ্কা, সরকার এবার বনভূমি ধ্বংস করতে চলেছে।
আরও পড়ুন ‘কুস্তিগিরদের যন্তরমন্তরের সামনে বসতে দেওয়া হবে না ‘, স্পষ্ট জানিয়ে দিল দিল্লি পুলিশ

মণিপুরের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ মূলত দু’টি। প্রথমত, রাজ্যের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং জলাভূমির উপর বনবাসী জনজাতিদের চিরাচরিত অধিকার কেড়ে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের গির্জাগুলির উপর লাগাতার হামলার ঘটনা। পাল্টা রাজ্য সরকারের দাবি, রাজনৈতিক উস্কানির কারণেই এমন অশান্তির ঘটনা ঘটছে। আদিবাসী জনজাতিদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংহের সভার ঠিক আগেই চূড়াচাঁদপুরে সভাস্থলে তৈরি হয় অশান্তির পরিস্থিতি। বিক্ষুব্ধ জনগণ আচমকা সভাস্থলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জানা গিয়েছে, আন্দোলনের পুরোভাগে রয়েছে মণিপুরের আইটিএলএফ নামে একটি সংগঠন। সেই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, বীরেন সিংহ সরকারের সঙ্গে আপোসের কোনও প্রশ্নই নেই।


More Stories
বিরল রোগে মরণাপন্ন আফগান পেসার দিল্লির
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
বারাসাত বিজেপিতে ভাঙন, দল ছাড়লেন তাপস মিত্র