Home » সোমবার অশান্ত মণিপুরে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

সোমবার অশান্ত মণিপুরে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ মে: হিংসায় জর্জরিত মণিপুরে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সোমবারই তিনদিনের জন্য উত্তর-পূর্বের রাজ্যে যাওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। রাজ্যবাসীর সঙ্গে কথা বলে সেখানে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুয়াহাটিতে গিয়ে অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন মণিপুরের ১৪ জন বিধায়ক ও স্পিকার। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানও তিনি। সেই দলে ছিলেন স্পিকার সত্যব্রত এবং রাজ্যের চার মন্ত্রী ও ১০ বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে ১০ জন বিজেপির। এছাড়া এনপিপি ও এনপিএফের দু’জন করে বিধায়ক। প্রায় চল্লিশ মিনিট তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিনিধি দলটির কথা মন দিয়ে শোনেন শাহ। তারপর তাঁদের কথা দেন, ২৯ মে, সোমবার তিনি মণিপুরে যাবেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন।

আরও পড়ুন  রোদে পোড়া ত্বকের দাগছোপ দূর করবে শশা

প্রসঙ্গত, শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ফের নতুন করে মণিপুরে হিংসা ছড়িয়েছে। প্রাণ গিয়েছে একজনের। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি ভাবে পৌঁছল ৭৩-এ। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মণিপুরে অশান্তি চলছে। এর মূলে রয়েছে মেটেই জনজাতির সঙ্গে আদিবাসীদের সংঘাত। মণিপুরের মেইতেই জনজাতিকে তফসিলি উপজাতির তকমা দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। মণিপুরের বিজেপি সরকার সেই দাবি মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাতেই ক্ষুব্ধ কুকি-সহ অধিকাংশ আদিবাসী সংগঠন। তাদের বক্তব্য, মেইতেইরাও যদি তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি পেয়ে যায়, তাহলে আদিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। তাছাড়া, মণিপুরের বিজেপি সরকার স্থানীয় বনাঞ্চলগুলিতে সমীক্ষা চালাচ্ছে। আদিবাসীদের আশঙ্কা, সরকার এবার বনভূমি ধ্বংস করতে চলেছে।

মণিপুরের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ মূলত দু’টি। প্রথমত, রাজ্যের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং জলাভূমির উপর বনবাসী জনজাতিদের চিরাচরিত অধিকার কেড়ে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের গির্জাগুলির উপর লাগাতার হামলার ঘটনা। পাল্টা রাজ্য সরকারের দাবি, রাজনৈতিক উস্কানির কারণেই এমন অশান্তির ঘটনা ঘটছে। আদিবাসী জনজাতিদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংহের সভার ঠিক আগেই চূড়াচাঁদপুরে সভাস্থলে তৈরি হয় অশান্তির পরিস্থিতি। বিক্ষুব্ধ জনগণ আচমকা সভাস্থলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জানা গিয়েছে, আন্দোলনের পুরোভাগে রয়েছে মণিপুরের আইটিএলএফ নামে একটি সংগঠন। সেই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, বীরেন সিংহ সরকারের সঙ্গে আপোসের কোনও প্রশ্নই নেই।

আরও পড়ুন  কুন্তল ঘোষের চিঠি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ মিলল না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

অন্যদিকে, অগ্নিগর্ভ মণিপুরে নিষিদ্ধ হয়েছিল বড় জমায়েত। বন্ধ ছিল ইন্টারনেটও। বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে চারিদিকে। প্রায় দু সপ্তাহ ধরে জারি ছিল ১৪৪ ধারাও। কিন্তু এসবের মধ্যেও বিক্ষোভ কর্মসূচী চলছিল। মূলে রয়েছে মেটেই জনজাতির সঙ্গে আদিবাসীদের সংঘাত। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে মেরি কমের মতো আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলিটদেরও অসহায় হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানাতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মেরি কম টুইটে লিখেছেন, “আমার রাজ্য মণিপুর জ্বলছে। দয়া করে সাহায্য করুন।” নিজের টুইটে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে।

About Post Author