Home » শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের পর এবার অভিষেককে তলব ইডির

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের পর এবার অভিষেককে তলব ইডির

সময় কলকাতা ডেস্ক,৯ জুনঃ বৃহস্পতিবার কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিজিও কমপ্লেক্সে জেরা করেছে ইডি। রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখান থেকে বেরনোর কিছুক্ষণ পরেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করল ইডি। সূত্রের খবর, আগামী ১৩ জুন মঙ্গলবার অভিষেককে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইডি।  এদিকে, ১৪ তারিখ পর্যন্ত ইডির হেফাজতে থাকবেন কালীঘাটের কাকু সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। তার আগেই অভিষেককে ডেকে পাঠাল ইডি। এর আগে গত ২০ মে সিবিআই কয়লা পাচার মামলায় জেরা করেছিল অভিষেককে। কুন্তল ঘোষের চিঠি কাণ্ড নিয়ে আদালতের নির্দেশে সিবিআই সেই তলব করেছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে। নবজোয়ার কর্মসূচির মাঝে সিবিআই তলবে হাজিরা দিতে বাঁকুড়া থেকে কলকাতায় ফিরে আসতে হয়েছিল অভিষেককে। ১৯ ঘণ্টার কম সময়ে তাঁকে নোটিস পাঠিয়ে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেদিন ন’ঘণ্টা ৪০ মিনিট জেরা করা হয়েছিল অভিষেককে।

নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’র গ্রেফতারির পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। বিরোধীদের অনেকেই বলছেন, পার্থর গ্রেফতারির থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই কাকুর গ্রেফতারি। উল্লেখ্য,কয়েকদিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের কাকুর বেহালার বাড়ি, অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যেদিন এই তল্লাশি চলছিল, সেদিন আবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কালীঘাটের কাকুর বাড়ি ও অফিস থেকে ইডি বেরিয়েছিল ১৬ ঘণ্টা পর। জানা গিয়েছিল, প্রচুর নথি নাকি নিয়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, সেই নথির ভিত্তিতেই কালীঘাটের কাকুকে গত ৩০ মে তলব করা হয়েছিল ইডি দফতরে। শেষ পর্যন্ত টানা ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর ইডির হাতে ওইদিন গ্রেফতার হন তিনি।

আরও পড়ুন   ৮ জুলাই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট, একদফাতেই নির্বাচন

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেফতারি অনেকখানি তাৎপর্যপূর্ণ। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অভিষেকের অফিসের কর্মচারী। তার উপর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সুপ্রিম কোর্টেও রক্ষাকবচ পাননি। স্বাভাবিকভাবেই, তদন্তের গতি প্রকৃতির ওপর নজর থাকবে প্রত্যেকেরই। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। লিপস অ্যান্ড বাউন্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর এএমডি পোস্টে ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কোম্পানিরই ডিরেক্টরস বোর্ডের একটি তালিকায় নাম ছিল সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের। কিন্তু,লোকসভা ভোটের আগেই এই কোম্পানি থেকে ইস্তফা দেন কালীঘাটের কাকু। প্রাথমিক তদন্তে ইডি-র অনুমান,কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরপথে কালো টাকা সাদা করত। কার্যত সেকারণেই কালীঘাটের কাকু এবং অভিষেককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের।

About Post Author