সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ জুন : রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণাতেই নড়ে চড়ে বসেছে রাজ্য। কড়া নাড়ছে পঞ্চায়েত নির্বাচন।২২টি জেলায় ৩৩১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচন কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৯৪। মোট পঞ্চায়েত আসন ৬৩ হাজার ২৮৩টি। আগামী ৮ জুলাই, শনিবার এই ৬৩ হাজার ২৮৩টি আসনে একদফাতেই ভোট গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে আসন সংখ্যা প্রায় ৬৩ হাজার। রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা অনুযায়ী, এত বিরাট সংখ্যক আসনে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দান শুরু হচ্ছে শুক্রবার এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন বৃহস্পতিবার। রবিবার মনোনয়নপত্র জমা হবে না, অর্থাৎ হাতে রইল ছয় দিন। প্রতিদিন ১১ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত চলবে মনোনয়ন। ফলে রবিবার বাদ দিয়ে আগামী ছয়দিন জমা দিতে হবে মনোনয়ন। মনোনয়ন জমা এবং আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে জমা হয়েছে বিতর্ক এবং শুরু হয়েছে তরজা।

বুধবারই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নিয়েছিলেন রাজীব সিনহা আর দায়িত্ব নিয়েই প্রথম সিদ্ধান্ত ঘোষণার মধ্যে দিয়েই বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে বিরোধী দল গুলির সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠক হয়নি । বলাবাহুল্য,বিগত দিনগুলিতে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে প্রতিবারই বিরোধীদের নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে। এবার সেই প্রথা বা রীতির ভেঙে দিয়েছেন রাজীব সিনহা।এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।ব্লক, জেলা বা রাজ্যস্তরে কোনও সর্বদলীয় বৈঠক না করেন একতরফা ভোটের দিন ঘোষণা কে মার্ডার অফ ডেমোক্রেসি বলছেন বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সিপিএম নেতা রবীন দেব সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একে চক্রান্ত বলেছেন এবং জানিয়েছেন, এই চক্রান্তের শরিক নবান্ন এবং রাজভবন। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা অবশ্য বিরোধীদের অভিযোগকে আমল দিতেই রাজি নন। তিনি বলছেন, “এটা কোনও নিয়ম নয়। আইনে এরকম কোন বিধি নেই। প্রয়োজন মনে করলে ওই বৈঠক ডাকা হবে।”।পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী নাকি রাজ্য পুলিশ তা এখনও খোলসা না করলেও পুলিশের উপরে ভরসা রাখার কথা হাবেভাবে কিছুটা হলেও পরিষ্কার করে দিয়েছেন রাজীব সিনহা। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোট করানোর বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে বিরোধীরা।বিরোধীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কি রায় দেয় পরবর্তী বিষয় , চটজলদি ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা এবং সর্বদলীয় বৈঠক না হওয়া নিয়ে ভ্রুক্ষেপ করছেন না রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে প্রতিক্রিয়াকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনে করছেন বিরোধীরা, বিগত আট দিন ধরে কমিশনার নিয়োগকে ঝুলিয়ে রেখে রাজীব সিনহাকে নিয়োগ এবং পঞ্চায়েতের দিনক্ষণ ঘোষণাকে চতুর পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রবীন দেব একে সরাসরি “চালাকি” বলছেন কিন্ত বিগত দিনগুলিতে তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও অন্যদিকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগের পরেই পঞ্চায়েতের দিনক্ষণ ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক মহল মনে করছে শাসক দল অন্তত প্রস্তুত। তৃণমূল বিগত কিছুদিনের কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে তারা ভেতরে ভেতরে প্রস্তুত ছিল। আচমকা দিনক্ষণ ঘোষণা যে হতে পারে -এটাই স্বাভাবিক ছিল, এমনটাই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা । এখন প্রশ্ন, বিরোধীরা কতটা প্রস্তুত । বিরোধীদের একাংশ নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।যদিও কোন রাজনৈতিক দলেরই প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা শুক্রবার সকালেও সামনে আসেনি। কোন রাজনৈতিক দল কতটা প্রস্তুত ? ভোট দুয়ারে কড়া নাড়ছে , নিজেদের গুছিয়ে কোমর বেঁধে ভোটে নামার সময় খুবই কম। ফলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির আগাম প্রস্তুতি এবারের নির্বাচনে এক্স ফ্যাক্টর হতে চলেছে।।


More Stories
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
অভিষেকের দুয়ারে ইডি