Home » পঞ্চায়েত ভোটে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণ কেন? কলকাতা হাইকোর্টে মামলা নির্বাচন কমিশনের

পঞ্চায়েত ভোটে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণ কেন? কলকাতা হাইকোর্টে মামলা নির্বাচন কমিশনের

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৪ জুনঃ রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তাকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন  এবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করল। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের এজলাসে চলতি সপ্তাহেই সেই মামলার শুনানি হতে পারে।অতীতের ভোটে হিংসার কথা মাথায় রেখেই পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
তাদের বক্তব্য, ২০১৮-র পঞ্চায়েত, একুশের ভোট পরবর্তী সময়ে বাংলায় ভয়ঙ্কর ছবি দেখা গিয়েছিল। সেসব মাথায় রেখেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাল্টা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তারা একটি স্বাশাসিত সংস্থা। পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার হলে তারাই করবে। এখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কোনওভাবেই তা করতে পারে না। নজরদারির কোনও এক্তিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নেই।রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন দেখার হাইকোর্টের শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়।
 পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তি রুখতে সোমবার থেকেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই ঘোষণার পরেই রাজ্যে চিঠি পাঠায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তারা জানায়, ভোটের সময়ে নজরদারি চালাতে রাজ্যে আসবে তারা। রাজ্যজুড়ে মনোনয়ন সংক্রান্ত অশান্তির আবহে ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে পঞ্চায়েত ভোট করতে হবে এবং মনোনয়নকে ঘিরে যাতে রাজ্যে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে রাজীব সিনহাও রাজ্যপালকে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন ও ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে সবরকম পদক্ষেপ করছে কমিশন। পাশাপাশি, জানিয়েছে, ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা, সেই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হাইকোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে তারা। এসবের মধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে মানবাধিকার জানিয়েছে, তারা নজরদারি চালাবে আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে। অর্থাৎ কোথাও কোনও অশান্তি হলে তারা নিজেদের উদ্যোগে রিপোর্ট তৈরি করবে এবং পরবর্তীকালে তা দেখিয়ে রাজ্যের কাছে জবাবদিহিও চাইতে পারে তারা।

About Post Author