Home » ভাঙড়ে স্ক্রুটিনিতে অশান্তি রুখতে চলছে পুলিশি টহলদারি

ভাঙড়ে স্ক্রুটিনিতে অশান্তি রুখতে চলছে পুলিশি টহলদারি

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৭ জুনঃ পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়নের পরেও থমথমে ভাঙড়। বাতাসে এখনও বারুদের গন্ধ। এখনও ভীতসন্ত্রস্ত ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ। ভাঙড়ে আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার তৃণমূল আইএসএফ সংঘর্ষে প্রায় ১৫ টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। দোকানপাটও লুঠ করা হয়। চলে ভাঙচুর। শনিবার ভাঙড়ে স্ক্রুটিনিতে অশান্তি রুখতে কড়া নিরাপত্তা বলয় গোটা ভাঙড়জুড়ে। শনিবার সকাল থেকেই ভাঙড় ১ ও ২ ব্লক অফিসের সামনে মোতায়েন র‍্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স। পুলিশের টহলদারি চলছে লাগোয়া এলাকায়। সকাল সকালই এলাকায় পৌঁছন বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি মিস পুষ্পা। তাঁর নেতৃত্বেই এলাকায় টহল দেয় পুলিশ। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়েই বিজয়গঞ্জ বাজার এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। ১ ও ২ নম্বর ব্লক অফিসের সামনে কেউ যাতে ভিড় না করে তার জন্য মাইক নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে পুলিশ। প্রার্থীর সঙ্গে এজেন্ট-সহ দুজনকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে বিডিও অফিসে। বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে পরিদর্শন করছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন তিনি।

আরও পড়ুন   পঞ্চায়েত নির্বাচনে স্পর্শকাতর বুথের তালিকা সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় শুরু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের

ইতিমধ্যেই ভাঙড়ের অশান্তির ঘটনায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবারই বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে প্রার্থীদের এসকর্ট করে নিয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। সেই মতো পুলিশ যখন প্রার্থীদের এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছিল, সেখানেই হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। সেখানে এক আইএসএফ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। শুক্রবার গোটা ঘটনা নিয়ে ফের বিচারপতি মান্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সেই শুনানিতে বিচারপতি বলেন, চারদিন ধরে ভাঙড়ে লাগাতার বেলাগাম সন্ত্রাস চলছে। অবশ্যই এব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে হাইকোর্ট। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস এবং নিরাপত্তার বিষয়ে আদালত চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না। বিচারপতি মান্থা আরও বলেন, এই ঘটনায় রাজ্যের ভূমিকা কী, সে ব্যাপারে জানাতে হবে আদালতে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

আরও পড়ুন    মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ভাঙ্গড়, নবান্নের কাছে রিপোর্ট তলব বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার

উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার মনোনয়নের শেষপর্বেও রণক্ষেত্র ভাঙড়। মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়ছে ভাঙড় ২ বিডিও অফিসের বাইরে।চলে বেশ কয়েক রাউণ্ড গুলিও। তৃণমূল এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সংঘর্ষে আবার অশান্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। তার জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক আইএসএফ কর্মীর। জখম হয়েছেন দুই তৃণমূল কর্মীও। এমনটাই দাবি যুযুধান দুই পক্ষের। বুধবার যে অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছিল তা ফিরে এল বৃহস্পতিবারও। ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের কাঁঠালিয়া মোড়ে আবার মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে গুলি চালানোরও। বাজারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। চলছে পুলিশি টহলদারিও। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে প্রথম থেকেই থমথমে পরিস্থিতি ছিল ভাঙড়ে। ভাঙড়ের দু’টি বিডিও অফিস চত্বরেই জড়ো হন তৃণমূল এবং বেলা গড়াতেই আইএসএফ-এর কর্মীরা। এর পরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

About Post Author