সময় কলকাতা ডেস্ক,২৪ জুনঃ পঞ্চায়েত নির্বাচনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে চেয়েছিল। সেই ব্যাপারে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তবে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। মূলত হিংসার কথা মাথায় রেখেই পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তাদের বক্তব্য ছিল, ২০১৮-র পঞ্চায়েত, একুশের ভোট পরবর্তী সময়ে বাংলায় ভয়ঙ্কর ছবি দেখা গিয়েছিল। সেসব মাথায় রেখেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাদের বক্তব্য ছিল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা। পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার হলে তারাই করবে। এখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কোনওভাবেই তা করতে পারে না। শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে কমিশনের মামলার শুনানি ছিল। শুনানি শেষে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যকেই মান্যতা দিল উচ্চ আদালত। জানিয়ে দিল, নির্বাচনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে পারবে না। যার ফলে স্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুন ৮২২ নয়, পঞ্চায়েত ভোটের জন্য ৩৩৭ কোম্পানির ফোর্স অনুমোদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

প্রসঙ্গত,পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তি রুখতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা করেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই ঘোষণার পরেই রাজ্যে চিঠি পাঠায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তারা জানায়, ভোটের সময়ে নজরদারি চালাতে রাজ্যে আসবে তারা। রাজ্যজুড়ে মনোনয়ন সংক্রান্ত অশান্তির আবহে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে পঞ্চায়েত ভোট করতে হবে এবং মনোনয়নকে ঘিরে যাতে রাজ্যে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে রাজীব সিনহাও রাজ্যপালকে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন ও ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে সবরকম পদক্ষেপ করছে কমিশন। পাশাপাশি, জানিয়েছিল ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা, সেই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হাইকোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে তারা। এসবের মধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে মানবাধিকার জানিয়েছিলেন, তারা নজরদারি চালাবে আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে। অর্থাৎ কোথাও কোনও অশান্তি হলে তারা নিজেদের উদ্যোগে রিপোর্ট তৈরি করবে এবং পরবর্তীকালে তা দেখিয়ে রাজ্যের কাছে জবাবদিহিও চাইতে পারে তারা।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
বারাসাত বিজেপিতে ভাঙন, দল ছাড়লেন তাপস মিত্র
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুস্তিগীরকে ফাঁসিতে ঝোলালো ইরান