সময় কলকাতা ডেস্ক,১৮ জুনঃ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই করতে হবে পঞ্চায়েত ভোট। এবার এই দাবিকে সামনে রেখেই সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকেমেল করতে চলেছেন ভোট কর্মীরা। কয়েক লক্ষ মেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজ্য পুলিশে নেই ভরসা। এই বয়ানে মেল করা হবে নির্বাচন কমিশন দপ্তরে। মেল করবেন সারারাজ্যের ভোটকর্মীরা। কয়েক লক্ষ মেল যাবে।গণস্বাক্ষর নেওয়ার পর দেওয়া হবে ডেপুটেশন। একইসঙ্গে তাঁরা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হতে চলেছেন বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলার প্রত্যেকটা ট্রেনিং সেন্টারে (ভোটের) কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে চলেছেন যৌথ মঞ্চের প্রতিবাদীরা। সঙ্গে চলবে গণস্বাক্ষর নেওয়ার অভিযান। শুধু ভোটার নয়, যাঁরা ভোট দিতে যাবেন তাঁদের নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিকে সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইছেন যৌথ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। এই দাবিকে সামনে রেখে ২৫ জুন মহামিছিলের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথমঞ্চ।

উল্লেখ্য,পঞ্চায়েত ভোটের রায় ঘোষণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ জানিয়েছিল, রাজ্যের স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কমিশন ইতিমধ্যে যে সব জেলাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে, সেখানে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রের কাছে রিক্যুইজিশন পাঠানো হোক। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দাবি, পঞ্চায়েত মামলা চলাকালীন কমিশন একটি বা একাধিক জেলাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করে কোনও রিপোর্টই পেশ করেনি। সে রকম কোনও প্রাথমিক মূল্যায়নও করেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টে থেকে কোনও সুরাহা না পেলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার পথ খোলা রাখছে। এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা শুরু করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কর্তারা।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত ভোটের আগে জেলায় জেলায় অশান্তির জের, রাজভবনে খোলা হল ‘পিস রুম’

পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত জোড়া জনস্বার্থ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার রায়দান স্থগিত রাখে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। দু’টি ধাপে এই মামলার সওয়াল-জবাব চলে। এদিন হাইকোর্টে সশরীরে হাজির ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিনে্র সওয়াল জবাব পর্বে বিচারক কমিশনকে আরও একবার পরিস্কার জানিয়ে দেন নির্বাচনের কাজে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করা যাবে না।সওয়াল জবাব পর্বে রাজ্য সরকারের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচনী নির্ঘণ্ট কী হবে তা ঠিক করার এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনেরই। আদালত এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।’এরপরেই কল্যাণের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম বলেন, ‘ জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত যদি যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নির্দেশ দিতেই পারে।’ শুধু তাই নয়। প্রধান বিচারপতি এও বলেন, ‘মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে, মানুষের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব আদালতের। সেটা ভুলে যাবেন না।


More Stories
অস্ত্র আইনে তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ দাস গ্রেফতার
স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশনের পাঠশালা, পড়ুয়া ব্যবসায়ীরা শিখবেন তো?
জিডিপি বিতর্কের খেই ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশ্বগুরু তকমা দিলীপ ঘোষের