সময় কলকাতা ডেস্ক,২২ জুনঃ পঞ্চায়েত মামলার শুনানিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে রাজীব সিনহার উদ্দেশে বলেছিলেন, চাপ সামলাতে না পারলে ছেড়ে দিন, রাজ্যপাল বিকল্প নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করে দেবেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কয়েকঘন্টা কাটতে না কাটতে রাতেই দেখা গেল, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে রাজীব সিনহার জয়েনিং রিপোর্ট গ্রহণ করলেন না রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত ভোটে ৮২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে কাকে নিয়োগ করা হবে তা রাজ্য মন্ত্রিসভার পরামর্শে স্থির করেন রাজ্যপাল। সেভাবেই রাজীব সিনহাকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগপত্র দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। দায়িত্ব নিয়ে রাজীব সিনহা রাজ্যপালকে জয়েনিং রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সূত্রের খবর, রাজ্যপাল তা গ্রহণ না করে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই, বাংলায় এই বিষয়টি কার্যত সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে দিল বলে মনে করছেন অনেকেই। গত শনিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে রাজভবনে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু রাজীব চিঠি দিয়ে তাঁর অপারগতার কথা জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন। সূত্রের খবর, সেই কারণ দেখিয়ে রাজভবন রাজীবের জয়েনিং রিপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছে।

এদিকে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট যে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে, উচ্চ আদালতে সে ব্যাপারে রিভিউ পিটিশন দাখিল করতে পারে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের দাবি, বুধবার অনেক রাত পর্যন্ত আইনজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক ও পরামর্শ করে একপ্রকার সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের স্পেশাল লিভ পিটিশন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর বুধবার হাইকোর্টের আরও কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন মণিপুরে জাতিদাঙ্গা বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার আর্জি কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধির

প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের নির্দেশ, ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটে যে সংখ্যায় সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি মোতায়েন করতে হবে এবার। অর্থাৎ ৮২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আদালতের নির্দেশ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে রিক্যুইজিশন পাঠাতে হবে কেন্দ্রকে। এই পরিস্থিতিতে সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবারই হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করতে পারে নির্বাচন কমিশন। হাইকোর্টে কোনও সুরাহা না হলে কমিশন ফের সুপ্রিম কোর্টেও যেতে পারে, এমনটাই সূত্রের দাবি। যদিও, বুধবার সেভাবে কিছুই বলতে চাননি নির্বাচন কমিশনার। রিপোর্ট হাতে পেয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান রাজীব সিনহা।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?