Home » মনোনয়ন পর্বে অশান্ত ভাঙড়ে সিআইডি, উত্তপ্ত থাকা এলাকা পরিদর্শনে তদন্তকারী আধিকারিকরা

মনোনয়ন পর্বে অশান্ত ভাঙড়ে সিআইডি, উত্তপ্ত থাকা এলাকা পরিদর্শনে তদন্তকারী আধিকারিকরা

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৫ জুনঃ পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন চলাকালীন দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এলাকাজুড়ে৷ ঘটনায় প্রাণ হারান ৩ জন৷ অশান্ত ভাঙড়ে মুড়ি-মুড়কির মতো পড়ছিল বোমা। পুলিশকে লক্ষ্য করে চলে ইটবৃষ্টি৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। বাধ্য হয়ে পালটা গুলি চালায় পুলিশ৷ আইএসএফ ও তৃণমূলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড়। এহেন পরিস্থিতিতে শনিবার বিকেলে ভাঙড়ে অশান্তি কবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করতে আসে সিআইডির আধিকারিকরা।

ভাঙড়ে মেলার মাঠ, বিজয়গঞ্জ বাজার, পানাপুকুর এলাকা-সহ একাধিক জায়গা পরিদর্শন করেন সিআইডি আধিকারিকরা। এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন সিআইডি দলের সদস্যরা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল তা প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখ থেকেই শোনেন সিআইডি আধিকারিকরা। বেশ কয়েকঘণ্টা এলাকা পরিদর্শনের পর আবারও কলকাতার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায় তারা। যদিও এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা।

আরও পড়ুন   ভাঙড়ে অশান্তির জের, নওশাদ সিদ্দিকীকে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

প্রসঙ্গত, মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। ভোর হতেই শুরু হয় বোমাবাজি। ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলে। এমনকী বিডিও অফিস চত্বরঅ এদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দু-দলের কর্মী সমর্থকদের হাতাহাতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মারামারির ছবি তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। তাঁদেরকেও মারধর করা হয়। এরপর শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন দিতে যান তৃণমূল প্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, আইএসএফ বাধা দিলে যাতে প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য তৈরি হয়েই আসতে হয়েছে তাঁদের। আইএসএফ-সিপিআইএমের অভিযোগ, মনোনয়ন দিতে বাধা দেওয়ায় তৃণমূল আইএসএফ কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা, এমনকী গুলি চালায়। পাল্টা প্রতিরোধ করতে গেলে অগ্নিগর্ভ চেহারা নেয় ভাঙড়। ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলতে থাকে বোমাবাজি।

আরও পড়ুন     মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ভাঙ্গড়, নবান্নের কাছে রিপোর্ট তলব বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার

এমনকী মনোনয়নের শেষ পর্বেও রণক্ষেত্র চেহারা নেয় ভাঙড়। মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়ে ভাঙড় ২ বিডিও অফিসের বাইরে। চলে বেশ কয়েক রাউণ্ড গুলিও। তৃণমূল এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সংঘর্ষে আবার অশান্ত হয়ে ওঠে ভাঙড়। তার জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এক আইএসএফ কর্মীর। জখম হন দুই তৃণমূল কর্মীও। এমনটাই দাবি যুযুধান দুই পক্ষের। মনোনয়ন পর্বে যে অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছিল তা ফিরে এসেছিল মনোনয়নের শেষ পর্বেও। ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের কাঁঠালিয়া মোড়ে মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। চলছে পুলিশি টহলদারিও। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে প্রথম থেকেই থমথমে পরিস্থিতি ছিল ভাঙড়ে। ভাঙড়ের দু’টি বিডিও অফিস চত্বরেই জড়ো হন তৃণমূল এবং বেলা গড়াতেই আইএসএফ-এর কর্মীরা। এর পরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

About Post Author