Home » ভাঙড়ে অশান্তির জের, নওশাদ সিদ্দিকীকে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

ভাঙড়ে অশান্তির জের, নওশাদ সিদ্দিকীকে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ জুন:  সওকত মোল্লাকে জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দিয়েছে নবান্ন। এই সিদ্ধান্তের ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। ভাঙড়ে তাঁর উপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন আইএসএফ নেতা ও বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। শুক্রবার এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন নওশাদ। বলেছিলেন, তাঁকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হোক। তারপরেই সোমবার সকালে জানা গেল নওশাদ সিদ্দিকীকে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এদিকে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই আঁতাতে অভিযোগ এনেছে তৃণমূল।

আরও পড়ুন   পঞ্চায়তের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ভাঙড়, নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পরিবহণ মন্ত্রী

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নওসাদ সিদ্দিকির একটা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট সোশাল মিডিয়ায় ‘ফাঁস’ হয়েছিল। সেই স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করেনি সময় কলকাতা। তবে ওই স্ক্রিনশটে দেখা গিয়েছিল, একুশের ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন নওসাদ। নিত্যানন্দ রাই অমিত শাহর ডেপুটি। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নিত্যানন্দ রাইয়ের অধীনেই রয়েছে। অবশ্য অমিত শাহর চূড়ান্ত অনুমতি অবশ্যই প্রয়োজন। বিজেপি সরকার নওসাদকে জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়ার পর তৃণমূল এখন দুইয়ে দুইয়ে চার করে দেখাতে চাইছে।

উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার মনোনয়নের শেষপর্বেও রণক্ষেত্র ভাঙড়। মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়ে ভাঙড় ২ বিডিও অফিসের বাইরে। চলে বেশ কয়েক রাউণ্ড গুলিও। তৃণমূল এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সংঘর্ষে আবার অশান্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। তার জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক আইএসএফ কর্মীর। জখম হয়েছেন দুই তৃণমূল কর্মীও। এমনটাই দাবি যুযুধান দুই পক্ষের। বুধবার যে অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছিল তা ফিরে এল বৃহস্পতিবারও। ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের কাঁঠালিয়া মোড়ে আবার মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে গুলি চালানোরও। বাজারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। চলছে পুলিশি টহলদারিও। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে প্রথম থেকেই থমথমে পরিস্থিতি ছিল ভাঙড়ে। ভাঙড়ের দু’টি বিডিও অফিস চত্বরেই জড়ো হন তৃণমূল এবং বেলা গড়াতেই আইএসএফ-এর কর্মীরা। এর পরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

আরও পড়ুন   দণ্ডি কাণ্ডের জের, আদিবাসী নির্যাতিতা শিউলিকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী করল তৃণমূল

প্রসঙ্গত, মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। ভোর হতেই শুরু হয় বোমাবাজি। ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলে। এমনকী বিডিও অফিস চত্বরঅ এদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দু-দলের কর্মী সমর্থকদের হাতাহাতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন।  মারামারির ছবি তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। তাঁদেরকেঅ এদিন মারধর করা হয়। এদিন শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন দিতে যান তৃণমূল প্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, আইএসএফ বাধা দিলে যাতে প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য তৈরি হয়েই আসতে হয়েছে তাঁদের।আইএসএফ-সিপিআইএমের অভিযোগ,এদিন মনোনয়ন দিতে বাধা দেওয়ায় তৃণমূল আইএসএফ কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা, এমনকী গুলি চালায়। পাল্টা প্রতিরোধ করতে গেলে অগ্নিগর্ভ চেহারা নেয় ভাঙড়। ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলতে থাকে বোমাবাজি।

About Post Author