সময় কলকাতা ডেস্ক,২৮ জুনঃ তুঙ্গে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত। সম্প্রতি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন, তাঁদের উপাচার্য হিসেবে পারিশ্রমিক ও ভাতা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর। রাজ্যের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করেই ওই উপাচার্যদের নিয়োগ করা হয়েছে। কার্যত সেকারণেই রাজ্যপাল নিযুক্ত উপাচার্যদের বেতন ও ভাতা বন্ধের নির্দেশ জানিয়ে সে নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই জানা গিয়েছিল। এরপর উপাচার্য নিয়োগের বৈধতা তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। বুধবার হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, রাজ্যপাল যে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন তা বৈধ। ইতিমধ্যেই উপাচার্যদের সমস্ত বেতন মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রাজ্যপালের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন সনৎ কুমার ঘোষ। তাঁর বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট আইন না মেনে অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই রাজ্যপাল উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগের যে সময়সীমা তা অগ্রাহ্য করেই রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের সঙ্গে পরমর্শ করার বিষয়টি আইনসভার অন্তর্ভুক্ত একটি আইন। সেই আইনকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। রাজ্য এই উপাচার্যদের বেতন দেয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগ যদি বেআইনি হয়, তাহলে সরকার টাকা দেবে কীভাবে? সেই প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী।এদিন মামলায় হাইকোর্ট তার নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, কোনওভাবেই উপাচার্যদের বেতন বা ভাতা বন্ধ করা যাবে না। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, জনস্বার্থ মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ায় চাপে পড়ল রাজ্য সরকার।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে কল্যাণী, বর্ধমান, যাদবপুর,কাজি নজরুল সহ রাজ্যের ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তারপরই উপাচার্য হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন নবনিযুক্ত। অনেকে আবার যোগ দেবেন কি না তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। সব মিলিয়ে শিক্ষার সার্বিক ক্ষতি হবে বলেই মত শিক্ষাবিদদের। আর এই নিয়োগের বিষয়টি নাকি সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। শিক্ষামন্ত্রীর টুইট থেকেই স্পষ্ট, রাজ্যপালের সেই সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা করছে রাজ্য। রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখেই করেছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। টুইটে তিনি বলেন, ‘এই নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি। বেআইনি ভাবে নবনিযুক্ত মাননীয় উপাচার্যদের সকলকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে সসম্মান অনুরোধ থাকবে যে, তাঁরা যেন এই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেন।’
আরও পড়ুন রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে,রাজ্যপাল নিযুক্ত ১৪ উপাচার্যের বেতন এবং ভাতা বন্ধের নির্দেশ ব্রাত্যর

সূত্রের খবর, গত ৩১ মে রাজভবনে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। বৈঠকে একাধিক অভিজ্ঞ অধ্যাপককে ডাকা হয়েছিল। তাঁরা উপাচার্য হতে চান কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল অধ্যাপকদের কাছে। এরপর ১ জুন ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল। স্বাভাবিকভাবেই, রাজভবনের সঙ্গে নবান্নের সংঘাত যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল, তা বলাই যায়। উল্লেখ্য,বর্তমানে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের কোনও কমিশনার নেই। এ প্রসঙ্গে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানিয়েছিলেন, ‘সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ যার পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, ‘আগের কোনও রাজ্যপালের সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আশা রাখি দ্রুত শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’ সেই সংঘাতের রেশ জারি থাকার মাঝেই এবার রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য ও রাজ্যপালের সংঘাত সামনে চলে এল


More Stories
আসন বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধনী তথা মহিলা সংরক্ষণ বিল আনতে ব্যর্থ কেন্দ্র
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?